সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, আয় ও ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ)।
দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ নুরুল আম্বিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতায় সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন। তবে একই সময়ে দেশের বিভিন্ন মিল-কারখানা বন্ধ হওয়া, শ্রমিক ছাঁটাই, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার কারণে শ্রমজীবী ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘একদিকে একটি শ্রেণির আয় দ্বিগুণের বেশি বাড়বে, অন্যদিকে শ্রমিক চাকরি হারাবেন, বেকারত্ব বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তেই থাকবে-এভাবে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো বা সামাজিক স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’
বাংলাদেশ জাসদ মনে করে, ‘সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি নিজে কোনো সমস্যা নয়; সমস্যা হলো জনগণের বৃহত্তর অংশের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে সমান গুরুত্ব না দেওয়া। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সাফল্যের মাপকাঠি শুধু সরকারি বেতন বৃদ্ধি হতে পারে না। একজন শ্রমিকের চাকরি কতটা নিরাপদ, একজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হলো কি না, কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন কি না এবং সাধারণ মানুষ তার আয় দিয়ে স্বস্তিতে জীবনযাপন করতে পারছেন কি না-এসবই অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রকৃত সূচক।’
বিবৃতিতে সরকারের প্রতি বন্ধ ও রুগ্ণ শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা, শ্রমিক ছাঁটাই রোধ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘জনগণের স্বস্তি শুধু বেতন বৃদ্ধিতে নয়-কাজের নিশ্চয়তা, ন্যায্য আয়, সহনীয় দ্রব্যমূল্য এবং বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যেই প্রকৃত স্বস্তি নিহিত।’
বিবৃতিতে সরকারি বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও জনগণের আয় বৃদ্ধিকে জাতীয় অর্থনৈতিক নীতির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সমন্বিত আয়, মজুরি ও কর্মসংস্থান নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
দেশবার্তা/একে