জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বর্তমান সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে পতন ঘটানোর কোনো কর্মসূচি ১১ দলীয় জোটের নেই। ‘আমরা এ সরকারকে আন্দোলন করে পতন করতে চাই না। আমরা উৎখাতের কোনো আন্দোলন করছি না।’
শুক্রবার দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আগামীকাল শনিবারের লং মার্চের প্রস্তুতি তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি জেলা ও মহানগরে নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে লং মার্চ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এতে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
তিনি জানান, কর্মসূচির সূচি অনুযায়ী সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের পর গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পথে কয়েকটি স্থানে সংক্ষিপ্ত পথসভা হবে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর আশা করছেন তারা।
পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি পথসভা চলার সময় অগ্রবর্তী একটি দল পরবর্তী স্থানে চলে যাবে। সেখানে তারা বক্তব্য দিয়ে পরবর্তী স্থানে যাবে। পরে শীর্ষ নেতারা ওই স্থানে গিয়ে যোগ দেবেন। এভাবে সময় সাশ্রয় করা হবে।
লং মার্চের সম্ভাব্য পথসভাগুলোর স্থান হিসেবে চিটাগাং রোডের কাচপুর সেতুর পাশের ট্রাকস্ট্যান্ড, পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, কুমিল্লার নুরজান হোটেলের সামনে, চৌদ্দগ্রাম, মহিপাল ও মিরসরাইয়ের কথা জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, যানজট বা গাড়ির কারিগরি ত্রুটির মতো স্বাভাবিক কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাড়িবহর চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
লং মার্চে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে প্রতিনিধির কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি গাড়ির সামনে ও পেছনে স্টিকার ও নম্বর থাকবে। শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক, তথ্যপ্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিভাগের গাড়িগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে থাকবে।
গাড়িবহরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অংশগ্রহণকারীদের পথে গাড়ি থেকে না নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পথসভায় স্থানীয় ১১ দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। গাড়িবহরের প্রতিনিধিরা গাড়িতেই অবস্থান করবেন। শুধু নির্ধারিত নেতারা বক্তব্য দেওয়ার জন্য গাড়ি থেকে নামবেন এবং বক্তব্য শেষে আবার গাড়িতে উঠবেন।
পথে নতুন কোনো গাড়ি বহরে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে না জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কেউ যুক্ত হতে চাইলে বহরের একেবারে পেছনে এসে যুক্ত হতে হবে।
তিনি জানান, গাড়িবহরে চিকিৎসা ও হৃদ্রোগের জরুরি অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক দলের গাড়ি এবং তথ্যপ্রযুক্তি দল থাকবে। তথ্যপ্রযুক্তি দল লং মার্চের সরাসরি সম্প্রচার করবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের পাশাপাশি প্রত্যেক দলের নিজস্ব গণমাধ্যম দলও বহরে থাকবে।
ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এখন পর্যন্ত লং মার্চ নিয়ে কোনো নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছেন না তারা। সবাই ঐক্যবদ্ধ আছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার লং মার্চে পূর্ণ নিরাপত্তা দেবে বলে তারা আশা করছেন। কোনো বিশৃঙ্খলা বা হামলার ঘটনা ঘটলে এর দায় সরকারকে বহন করতে হবে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ‘শক্ত জবাব’ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।