সাগরে নতুন এলএনজি টার্মিনাল, ২৬ ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করা হবে

জাতীয়

গভীর সমুদ্রে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

2026-09-09T16:56:49+06:00
2026-09-09T16:56:49+06:00
মঙ্গলবার ● ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
জাতীয়
সংসদে প্রধানমন্ত্রী
সাগরে নতুন এলএনজি টার্মিনাল, ২৬ ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করা হবে
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম 
গভীর সমুদ্রে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সমুদ্র অঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের তথ্যও জানান তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নারী আসন-১৭-এর সদস্য সুলতানা আহমেদ এবং মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের পৃথক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সমুদ্র অঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত। পাশাপাশি স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আকস্মিক বা সাময়িক সংকটেও শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সরকার ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বি-মাত্রিক (২ডি) এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ত্রি-মাত্রিক (৩ডি) সাইসমিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে।

গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ির টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দরসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে গভীর সমুদ্রে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে এনে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড, বিসিকসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পাঞ্চলে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

কৌশলপত্র অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক সৌরপ্রকল্প থেকে আরও ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বায়ু বিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সোলার ও অ্যাগ্রিভোলটেইক্স প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, বিশেষায়িত ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং দুই শতাংশের অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, নতুন মূল্য প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা যুক্ত করে জাতীয় গ্রিডে এই বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুসরণ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারী সাধারণ ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা নিজেদের চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করতে পারবেন।

তিনি জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারে ইতোমধ্যে পিপিপি নির্দেশিকা-২০২৬, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিশেষ নীতিমালা-২০২৫, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ এবং হালনাগাদ নেট মিটারিং গাইডলাইন-২০২৫ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায়িক মডেল, অনশোর উইন্ড গাইডলাইন এবং কার্বন ক্রেডিট সংক্রান্ত পথনির্দেশিকাও কার্যকর করা হয়েছে।

দেশবার্তা/এমআর


সর্বশেষ সংবাদ 

‘ইউনিক’ আইডি কার্ড চালুর কাজ শুরু করেছে সরকার
ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী সাদিক কায়েম, উত্তরে সেলিম উদ্দিন
জিন্নাহর ছবি টাঙানোর ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসু জিএস
ছয় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীর স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব একই বলয়ে
কর্মসংস্থান ব্যাংক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে ইকবাল-জাহাঙ্গীর

সর্বাধিক পঠিত 

দুর্নীতির অভিযোগে বিআরটিএ চট্টগ্রাম সার্কেল-১ ডিডির অপসারণ দাবি
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে আলোচনায় শফিকুল আলম শিপলু
বৈধ বরাদ্দের পরও চা দোকানিকে হুমকি
ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন সাবেক ভিপি প্রার্থী
এক মাসেও এল না ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেপথ্যে কী
জাতীয়- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]