ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সমাপ্তির পর দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ ও তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রক্রিয়ায় ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার ওপর সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রণ ও তেল রাজস্ব নীতির দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেই সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলেও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতি অব্যাহত রাখার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
রোববার আয়ারল্যান্ড সফরে একটি আন্তর্জাতিক গলফ টুর্নামেন্টে যোগ দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই কৌশলগত অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত না নিই, তাহলে শেষ পর্যন্ত ইরান থেকে বেরিয়ে আসব; কিন্তু যদি তেলের নিয়ন্ত্রণ নিই- তাহলে সেখানে আমাদের উপস্থিতি থাকবে।’
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে গত ডিসেম্বরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ‘অপারেশন অ্যাবস্যালুট ডিজলভ’ নামের একটি বিশেষ সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন সেনারা। ওই অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়।
বর্তমানে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, সন্ত্রাসবাদী গ্যাং-এর সঙ্গে যোগসাজশ এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে নিউইয়র্কের আদালতে বিচারকাজ চলছে।
পরবর্তী সময়ে গত ৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মার্কিন নীতি স্পষ্ট করে ঘোষণা দেন, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির তেল উত্তোলন, বিপণন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে থাকবে।
মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার তেল খাত বিশৃঙ্খলার দিকে ঝুঁকে পড়ুক-এমনটা আমরা চাই না। এ কারণেই সার্বিক ব্যবস্থাপনা এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’
ইতিমধ্যে মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুত ব্যবস্থাপনার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী বা একশত বছর মেয়াদী চুক্তির কথা উল্লেখ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির যাবতীয় আয় মার্কিন নিয়ন্ত্রিত বিশেষ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে এবং তার ব্যবহার বা বণ্টনের সিদ্ধান্ত দিচ্ছে ওয়াশিংটন। ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এই ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন জানিয়ে এটিকে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক বলে মনে করছেন।
আয়ারল্যান্ডে ট্রাম্প জানান, চলমান যুদ্ধ শেষ হলে ইরানের ক্ষেত্রেও ভেনেজুয়েলার আদলে এই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নীতি প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হতে পারে।
দেশবার্তা/একে