পিরোজপুরের নাজিরপুরে মাদকসংক্রান্ত একটি ভিডিও সংগ্রহ করে তথ্য যাচাই ও অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিক মো. বাবুল শেখের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর এবং ক্যাশে থাকা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ৭ নম্বর শেখমাটিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রামভদ্রা নতুন বাজারে তাঁর রড-সিমেন্টের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স শেখ এন্টারপ্রাইজে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত মো. বাবুল শেখ দৈনিক প্রভাতের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা পিরোজপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। নাজিরপুর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, কয়েক দিন আগে সোর্সের মাধ্যমে স্থানীয় কয়েকজনের মাদক ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত একটি ভিডিও পান। সাংবাদিক হিসেবে ভিডিওটির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও অনুসন্ধান করছিলেন তিনি। ভিডিওটি তাঁর মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত ছিল।
বাবুল শেখের অভিযোগ, বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্তরা ভিডিওটি মুছে ফেলার জন্য তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাপ দিতে থাকেন। ভিডিও মুছে ফেলতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে খুন-জখমের হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে মো. নূর ইসলাম মহম, রুহুল শেখ, হাসিনা বেগম, ইমারত শেখ ও মো. লিটনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন তাঁর দোকানে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা লোহার পাইপ, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান এবং মোবাইল ফোনটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাবুল শেখের অভিযোগ, হামলায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান তিনি। একপর্যায়ে তাঁর ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেন। একই সময় তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে তাঁকে অবরুদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে মোবাইল ফোনে নাজিরপুর থানায় যোগাযোগ করলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এ সময় তাঁর দোকানের ক্যাশে থাকা নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
পরে স্থানীয়রা আহত বাবুল শেখকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ