ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের খাবার খাওয়ার পর তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে অন্তত ২০ শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরেছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বলে জানা গেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোয়ালগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তুলসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের খাবার খাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার নিশাত জানান, দুপুর ২টা থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই বমি করেছে, আবার অনেকের পেটব্যথা দেখা দিয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কিছু শিশু সুস্থ হওয়ায় তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপাতত ভয়ের তেমন কিছু নেই বলেও জানান তিনি।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, ‘মিড ডে মিলের দুধ খাওয়ার পর সবার পেটের ব্যথা শুরু হয়। অনেকেই স্কুলেই বমি করেছে। প্যাকেটজাত করা দুধ তিতা এবং নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমরা স্যার ও ম্যামকে বললে তারা বলে খেয়ে নাও, কিছু হবে না।’
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীম হাসান জানান, ‘পেট খুব ব্যথা করতেছে, বমি আসতেছে, কিন্তু বমি করতে পারছি না। দুধ খাওয়ার পর থেকেই পেটে ব্যথা শুরু হয়েছে।’
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানায়, সোমবারের মিড ডে মিলে দুধ ও পাউরুটি দেওয়া হয়। দুধ খাওয়ার পরই তাদের পেটব্যথা শুরু হয়।
জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের সাত উপজেলার মধ্যে বালিয়াডাঙ্গীতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে গত জানুয়ারি থেকে মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু হয়েছে। উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে পাঁচ দিন বিভিন্ন খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
ডিম, পাউরুটি ও কলা সরবরাহ করে স্থানীয় সংস্থা ইএসডিও। দুধ সরবরাহ করে আরডি নামে একটি সংস্থা এবং বিস্কুট সরবরাহ করে প্রাণ কোম্পানি।
প্রতিনিধি/আরএইচ