গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ী ও তালুক বেলকা গ্রামে রোববার সন্ধ্যায় শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজন শিশু। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে চার-পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। সোমবার সকালে মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান।
আহতরা হলেন—জিগাবাড়ী গ্রামের মুকুল মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩৮), তাঁর ছেলে রাকিবুল হাসান (১৩), ইয়াকুব আলীর ছেলে এনামুল হক (২৬), আব্দুল আহাদ আলীর মেয়ে আয়শা আক্তার (৩) ও মো. আব্দুর রহিমের ছেলে হাসান মিয়া (৭)। এছাড়া তালুক বেলকা গ্রামের জমশের আলীর স্ত্রী লিলি বেগম (৩৫), মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে সাদেক হোসেন (৭০), আব্দুল হান্নান মিয়ার স্ত্রী আফরুজা বেগম (৩৭) এবং শফিউল ইসলামের ছেলে শাওন মিয়া (৬) আহত হয়েছেন।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ একটি শিয়াল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। পরে পথচারী ও বাড়ির আশপাশে থাকা একে একে নয়জনকে কামড় দেয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত লিলি বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে আরও অন্তত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
হাসপাতালে ভর্তি গুরুতর আহত লিলি বেগম জানান, সন্ধ্যার দিকে জমির আইলে তাঁদের প্রতিবেশী সাদেক হোসেনকে শিয়ালটি কামড়াতে থাকে। এ অবস্থা দেখে তিনি সাদেক হোসেনকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে শিয়ালটি তাঁর কপালে কামড়ে মাংস ছিঁড়ে নেয়। তিনি আরও জানান, সাদেক হোসেনের গাল ও কপালেও কামড়েছে শিয়ালটি। তাঁরা দুজনই হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এদিকে, শিয়ালের তাণ্ডবের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে স্থানীয়রা শিয়ালটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন বলে জানা গেছে।
জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদিয়া স্নিগ্ধা বলেন, শিয়ালের কামড়ে আহত নয়জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের মুখ, ঠোঁট ও কপালে কামড়ের ক্ষত রয়েছে। রাবেয়া বেগমের অবস্থা গুরুতর। লিলি বেগমের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাঁর কপালে বড় ক্ষত হয়েছে এবং তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ