দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বিচারবর্হিভূত জনরোষ ও মব সহিংসতার (গণপিটুনি) ঘটনা। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই সারা দেশে মব ভায়োলেন্সে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৪ জন।
সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গণপিটুনিতে ১২৮ জন এবং ২০২৫ সালে ১৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর আট মাস না পেরোতেই মৃত্যুর সংখ্যা দেড়শত ছাড়িয়ে গেছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে একের পর এক মব সহিংসতার ঘটনা। পাবনার কুলুনিয়ায় শিশু কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মোস্তাফা কামালের বাড়িতে টানা তিন দিন ধরে ভাঙচুর চালানো হয়। এর এক সপ্তাহ না যেতেই জেলাটিতে আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামুন ও জুয়েল নামের দুই যুবকের দোকান ও বাড়িঘরে আগুন দেয় উত্তেজিত জনতা।
গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাগেরহাটের মোল্লাহাটে এক শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। একই দিনে রাজশাহীর চণ্ডিপুরে টাকা ভাঙতি না দেওয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনায় অর্ধশতাধিক যুবক মিলে এক মুদিদোকানির দোকান ও বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে তাকে হত্যা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনের প্রতি আস্থার অভাব, গুজবের বিস্তার এবং অপরাধের দৃশ্যমান বিচার বা জবাবদিহি না থাকায় মানুষের মাঝে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ হোসেন বলেন, জনগণ এবং পুলিশের মধ্যে যে আস্থার জায়গা, সেটি কিন্তু এখনও পর্যন্ত ফিরে আসেনি। এটি একটি বড় বিষয়। প্রতিকারের জন্য তারা যে জায়গায় যাবে, সেটি কিন্তু আরও বেশি দৃষ্টি দিতে হবে।
মব সহিংসতা রুখতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আশ্বাসের পাশাপাশি পুলিশের কার্যক্ষমতার কথা উল্লেখ করে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্বিক) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পুলিশের যে জনবল আছে, যে টেকনিক্যাল ক্যাপাসিটি বলেন, বা আমাদের যে অন্যান্য সক্ষমতা, লজিস্টিক, এটা যেটা আছে, এটা দিয়েই আমরা সম্ভব। যদি এলাকাবাসী আমাদেরকে সহযোগিতা করে, আমাদের যেটা আছে, কমিউনিটি বেসড পুলিশিং, তারা যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদেরকে সহায়তা করে, অবশ্যই আমরা এই ক্যাপাসিটির মধ্যেই সবকিছু কাভার দিতে সম্ভব।
দেশবার্তা/একে