বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নে ডালিম মল্লিক নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, ওই যুবকের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। মানববন্ধন থেকে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে কলেজ বাজার এলাকায় স্থানীয় গ্রামবাসীর আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে বহরবুনিয়া গ্রামের ডালিম মল্লিক বেপরোয়া হয়ে এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষকে অশান্ত করে তুলছেন। তাঁদের অভিযোগ, তিনি জোরপূর্বক একাধিক মৎস্যঘের থেকে মাছ লুট, চাঁদা দাবি, হিন্দুপাড়ার বাসিন্দাদের রাতে অনধিকার প্রবেশ করে নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্ত করতেন।
এ ছাড়া প্রকাশ্যে চানমিয়া জোমাদ্দার ও তাঁর ছেলে রাজিব জোমাদ্দারকে মারধর করে গুরুতর জখম করা এবং নূরুল ইসলাম নামের এক কৃষকের ৪০ শতক জমিতে জোরপূর্বক লাল পতাকা টাঙিয়ে ফসল বুনতে না দেওয়ার অভিযোগও করেন স্থানীয়রা।
ইতোমধ্যে ডালিম মল্লিকের বিচার চেয়ে স্থানীয় ৮০ জন গ্রামবাসী গণস্বাক্ষর করে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তাঁরা।
সর্বশেষ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বহরবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা শুকুর জোমাদ্দারের মেয়ে ও রওশন আরা ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সাদিয়া আক্তার মোরেলগঞ্জ শহরে এলে তাঁকে উত্ত্যক্ত ও অশ্লীল আচরণ এবং ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ ওঠে ডালিম মল্লিকের বিরুদ্ধে।
পরে স্থানীয় লোকজন ডালিম মল্লিককে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় কলেজছাত্রী সাদিয়া আক্তার বাদী হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর ডালিম মল্লিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন ওমর আলী শেখ, শুকুর জোমাদ্দার, ইলিয়াস ফরাজী, নাদিম হোসেন, আব্বাস মোল্লা, খোকন তালুকদার ও কালাম মোল্লাসহ অনেকে। বক্তারা ডালিম মল্লিকের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।
মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. শহিদুল্লাহ বলেন, কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় তাৎক্ষণিক মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় যুবক ডালিম মল্লিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ