মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশকে মাদকমুক্ত করে তরুণ ও যুবসমাজকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষ কাঞ্চনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দিনাজপুরের মানুষ নম্র ও ভদ্র প্রকৃতির। এ জেলার মানুষ সাধারণভাবে চলাফেরা করতে ভালোবাসেন। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করায় দিনাজপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দিনাজপুরের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নানাবাড়ি দিনাজপুরে এবং তাঁর প্রয়াত মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শৈশব কেটেছে এ শহরে। এখানকার জনসাধারণের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
মন্ত্রী বলেন, দিনাজপুর একটি বৃহৎ জেলা। এ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা সীমান্তবর্তী। বিগত সরকারের সময়ে সীমান্ত দিয়ে অবাধে মাদক প্রবেশ করায় দেশের যুবসমাজের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সর্বস্তরে উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, মাদকের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস নেই। সরকার মাদক প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মাদক কারবারি, গডফাদার, বিক্রেতা ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, মাদক নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
যুবসমাজের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, 'তোমাদের চোখে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। তোমরাই নতুন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই মাদককে না বলতে হবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই একটি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব হবে।'
তিনি আরও বলেন, আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু যে দলেরই হোক বা যে পরিচয়ই দিক, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম এবং দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এজেডএম রেজওয়ানুল হক।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন জেলা পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, পিপিএম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসূল রাখি, দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান, দিনাজপুর চেম্বারের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক এবং জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মো. আনিসুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ।
সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং জনসাধারণের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম ও উন্নয়নসংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক।
প্রতিনিধি/আরএইচ