নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, কারখানার প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন ‘পি আই ওশান টেক্স’ নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার মালিক মো. তৈয়ব মিয়া। রাস্তা বন্ধ থাকায় বর্তমানে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি। এতে শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও রপ্তানি কার্যক্রম বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন কারখানাটির মালিক।
সংবাদ সম্মেলনে তৈয়ব মিয়া জানান, ফতুল্লার ধাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় অবস্থিত শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাটি প্রায় চার বছর ধরে ১০ ফুট প্রশস্ত একটি অংশীদারত্বমূলক (এজমালি) রাস্তা ব্যবহার করে পরিচালিত হয়ে আসছে।
তার অভিযোগ, চলতি বছরের মার্চে এইচ এ এম মাহমুদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি জমির মালিকানা দাবি করে তাঁর কাছে ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। নির্ধারিত অঙ্কের সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কারখানার প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে কারখানায় হামলা চালিয়ে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাস্তার ওপর দেয়াল নির্মাণ এবং সেখানে ময়লা-আবর্জনা ও বয়লারের বর্জ্য ফেলে চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান এই উদ্যোক্তা।
তিনি আরও বলেন, কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় বিদেশি ক্রেতাদের অনেক অর্ডার ও গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি চুক্তি বাতিল হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি ব্যাংকঋণ পরিশোধেও মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ফতুল্লা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় রাস্তার অধিকার ফিরে পেতে আদালতেও মামলা করা হয়েছে বলে জানান তৈয়ব মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে জমির সঠিক দলিল যাচাই করে রাস্তা খুলে দেওয়া, চাঁদা দাবির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, কারখানা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
দেশবার্তা/আইএইচই/একে