আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দেড় দশকের শাসনামলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। এর সরাসরি খেসারত এখন দিতে হচ্ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে, যার কারণে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা।
তাদের মতে, দেশে বিনিয়োগের নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ায় মূলধন স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হারে। ফলে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও জরুরি পণ্য আমদানি মেটাতে চরম চাপের মুখে পড়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার।
একদিকে উন্নত অর্থনীতির দেশ গড়ার প্রচারণা, অন্যদিকে অর্থপাচারের ঘটনা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৈরি অর্থনীতির শ্বেতপত্রে উঠে আসে এমন বিপরীতমুখী চিত্র।
অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে তৈরি ওই শ্বেতপত্রে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে দেশ থেকে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি (২৩৪ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের উপযুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ না থাকার কারণেই মূলত অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ মনে করেন, অর্থ পাচার বা মূলধন স্থানান্তর না হলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার আরও বেশি হতে পারত।
তিনি বলেন, মূলধন ধরে রাখতে হলে দেশে বিনিয়োগকে নিরাপদ ও অধিক মুনাফাজনক করতে হবে। সেটি নিশ্চিত করা গেলে বিদেশে টাকা পাঠানোর প্রবণতা এমনিতেই কমে আসবে।
অন্যদিকে অর্থ পাচারের কারণে স্থানীয় মুদ্রা টাকার মানের বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে আঘাত হেনেছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘যে পরিমাণ ডলার দেশে আসার কথা ছিল, তা আসেনি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাচার হওয়া এসব ডলার যদি দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় থাকত, তবে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ১২৫ থেকে ১২৬ টাকায় পৌঁছাত না। বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে থাকলে আমদানি পণ্যের দাম আরও কম থাকত এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সরকারের সময় ঘটে যাওয়া লাগামহীন অর্থ পাচার ও সুশাসনের অভাবই বর্তমান সরকারের আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া কৃত্রিম চাপের অন্যতম প্রধান কারণ। সূত্র: সময় টিভি
দেশবার্তা/একে