পৃথিবীর অন্যতম ধনী ব্যক্তি ওয়ারেন বাফেট। বিপুল সম্পদের মালিক তিনি। তাকে চেনেন না এমন মানুষ কমই আছেন। অথচ তার অভ্যাসের কথা শুনলে অনেকেই অবাক হবেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করেন না, বরং তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে মিষ্টি স্বাদের এক কোমল পানীয়। তাও এক দুদিন নয় ৪৮ বছর ধরে পানি পান করেন না তিনি।
সম্প্রতি ‘ইকুইটি মেটস ইনভেস্টিং’ পডকাস্টে অংশ নিয়ে বাফেটের সঙ্গে নিজের একটি নৈশভোজের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে এ কথা জানান আরেক ধনকুবের বিনিয়োগকারী বিল অ্যাকম্যান। কয়েক বছর আগে নিজের বাড়িতে বাফেটকে আপ্যায়ন করার সময় অতিথির পছন্দের কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই চেরি কোকের ব্যবস্থা রেখেছিলেন তিনি।
নৈশভোজের একপর্যায়ে বাফেটকে সাধারণ পানি কিংবা স্পার্কলিং ওয়াটার (গ্যাস মিশ্রিত পানি) পানের প্রস্তাব দেন অ্যাকম্যান। কিন্তু উভয় পানীয়ই প্রত্যাখ্যান করে চেরি কোক চান বাফেট। এ সময় অবাক হয়ে অ্যাকম্যান তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কি পানি পান করেন না?’ জবাবে বাফেট জানান, ‘বিল, আমি ৪৮ বছর ধরে পানি পান করিনি।’
অ্যাকম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগের ওই ব্যক্তিগত নৈশভোজেই কথাটি বলেছিলেন বাফেট। তবে নির্দিষ্ট করে কোনো সময় উল্লেখ না করায় এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং বাফেটও এ বিষয়ে নতুন করে কোনো মন্তব্য করেননি।
পানি না পানের এই দাবিটি চমকপ্রদ হলেও কোমল পানীয়ের প্রতি ওয়ারেন বাফেটের দুর্বলতার কথা সর্বজনবিদিত। ২০১৯ সালে সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি প্রতিদিন প্রায় পাঁচটি ১২ আউন্সের কোক পান করেন। এর আগে ২০১৫ সালে নিজের দৈনিক ক্যালরির প্রায় এক-চতুর্থাংশ কোকা-কোলা থেকে আসে বলেও মজা করে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
চেরি কোকের প্রতি বাফেটের এই ভালোবাসার ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৯৮৬ সালে দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে অন্য একটি কোমল পানীয় পানের অভ্যাস ত্যাগ করে তিনি চেরি কোক পান করা শুরু করেন। এরপর থেকেই এটি তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী।
ব্যক্তিগত পছন্দের পাশাপাশি কোকা-কোলার সঙ্গে বাফেটের দৃঢ় ব্যবসায়িক সম্পর্কও রয়েছে। তাঁর বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে কোকা-কোলার শেয়ার কিনতে শুরু করে। বর্তমানে কোম্পানিটির কাছে কোকা-কোলার প্রায় ৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
দেশবার্তা/একে