যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের অত্যন্ত আলোচিত সিনেটর পদে জয়লাভ করে প্রথম মুসলিম হিসেবে দেশটির উচ্চকক্ষে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল আল-সাইয়েদ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে তিনি পরাজিত করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইং স্টেট’ বা দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে অর্জিত এই জয় ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থী ও প্রগতিশীল অংশের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিশরের অভিবাসী দম্পতির সন্তান জনস্বাস্থ্যের সাবেক কর্মকর্তা আল-সাইয়েদ এর আগে কখনো কোনো নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করেননি।
আট বছর আগে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক দলীয় গভর্নর পদপ্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হলেও সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নিজের আসন নিশ্চিত করলেন।
ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি এবং সাধারণ নির্বাচন- উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে জয়ী হয়েছেন আল-সাইয়েদ। তাঁর এই জয়ের মূল ভিত্তি ছিল তৃণমূল পর্যায়ের প্রচারণা, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাইরের অর্থের প্রভাব দূর করা এবং ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা।
বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই জয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রগতিশীল আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা প্রার্থী হিসেবে মাইক রজার্সের জন্য শক্ত অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে যুদ্ধজনিত কারণে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও শুল্কনীতির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে জনমনে থাকা উদ্বেগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে বেশ হিমশিম খেয়েছেন এই সাবেক কংগ্রেসম্যান।
আব্দুল আল-সাইয়েদের এই জয়যাত্রা সহজ ছিল না। দলের ভেতরের বাধাও তাকে মোকাবেলা করতে হয়েছে। নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারিতে আল-সাইয়েদের কাছে হেরে যাওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেনস তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং বিরোধী দলের প্রার্থীকে সমর্থন জানান। তা সত্ত্বেও উজ্জীবিতভাবে প্রচারণা চালিয়ে যান আল-সাইয়েদ। এমনকি প্রচারণাকালে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে টার্গেট করে বিপক্ষ শিবির ও খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও কটূক্তি করা হয় এবং তাঁকে ‘জঙ্গি’ ও ‘জিহাদি’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা চলে।
তবে মিশিগানের স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য স্থানীয় সমস্যা সমাধানে তাঁর সরব উপস্থিতি জনমনে জনপ্রিয়তা কমাতে পারেনি। প্রচারণাকালে তিনি বারবার স্পষ্ট করে বলেছিলেন, শুধু মুসলিম সিনেটর হতে নয়, বরং মিশিগানের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার উচ্চকক্ষ হলো সিনেট। দেশের ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সিনেটর নিয়ে গঠিত এই কক্ষে প্রতি ছয় বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন সদস্যরা। প্রতি দুই বছর পর এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
দেশবার্তা/একে