অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (ADUST) নির্মাণকাজের বিল পরিশোধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামে জাল মানি রিসিট তৈরি করে ৪৯ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অথেনটিক ডিজাইন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. ওসমান সিকদার। একই সঙ্গে তাঁর প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল ও জামানতের অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
ওসমান সিকদারের দাবি, তাঁর প্রতিষ্ঠান অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কাছ থেকে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে দুই তলাবিশিষ্ট একটি স্টিল বিল্ডিং নির্মাণের কার্যাদেশ পায়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে বাকি কাজের বিল উত্তোলনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখায় যোগাযোগ করতে গিয়ে কথিত জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা।
অভিযোগে বলা হয়, অথেনটিক ডিজাইন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের নামে জাল মানি রিসিট তৈরি করে অন্য কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখা থেকে ৪৯ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। বিষয়টি জানার পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
ওসমান সিকদার জানান, তাঁর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান করা হয় ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব কামরুজ্জামান লিটুকে। এ ছাড়া উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের উপস্থিতিতে পাওনা পরিশোধ এবং অভিযোগের বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক যৌথ সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
তবে ওই সভার পর প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা তদন্তের অগ্রগতি জানতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকটে পড়েছে বলেও দাবি তাঁর।
ওসমান সিকদারের দাবি, তাঁর প্রতিষ্ঠানের ২৬ লাখ টাকা বকেয়া বিল এবং ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা সিকিউরিটি মানি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাওনা রয়েছে। কথিত জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলিত ৪৯ লাখ টাকাসহ এসব অর্থ পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাওনা বুঝে পেলে অবশিষ্ট ১০ শতাংশ নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতেও তাঁর প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই ঠিকাদার। তাঁর দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাঁর প্রতিষ্ঠানের বৈধ পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা নিতে হবে।
একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজের বিল নিয়ে এমন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত নিষ্পত্তি জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। তবে অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
দেশবার্তা/আরএম/একে