বিশ্বজুড়ে সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকতামূলক কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের হত্যার ৮৬ শতাংশ ঘটনারই কোনো বিচার হয়নি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী এ ধরনের ১৮৯ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন, যার ৬৭ শতাংশ হত্যাকাণ্ডই ঘটেছে সশস্ত্র সংঘাত চলমান দেশগুলোতে।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারহীনতা অবসানের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেসকো)।
সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশে ইউনেসকোর প্রতিনিধি ও ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান ড. সুসান ভাইজের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য,‘হুমকির ধরন বদলাচ্ছে। বিচারহীনতা রয়ে যাচ্ছে।’ বিবৃতিতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পরিবর্তনশীল হুমকি এবং অপরাধের ক্ষেত্রে জবাবদিহির তীব্র ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের সঠিক তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সবচেয়ে জরুরি।
বিচারহীনতা দূর করার বিষয়ে ইউনেসকো জানায়, কেবল অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করলেই চলবে না; বরং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, হুমকির ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং সাংবাদিকদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদারে জাতিসংঘের নির্বাচনী সহায়তা প্রকল্প ‘ব্যালট’ এর আওতায় কাজ করে যাচ্ছে ইউনেসকো।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী প্রায় তিন হাজার সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ২০০ জন নারী সাংবাদিক ও ২৪ জন ফটোসাংবাদিক রয়েছেন। ওই প্রশিক্ষণে সাংবাদিকদের নিরাপত্তাবিষয়ক পূর্ণদিবসের একটি বিশেষ মডিউল অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এছাড়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের জন্য ৬০টি সুরক্ষা ভেস্ট, ৪ হাজার সাংবাদিক সহায়ক কার্ড এবং ৭ হাজার ৫০০টি নির্বাচনবিষয়ক প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশিকা বিতরণ করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ এবং গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
দেশবার্তা/একে