হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ২০ জনের বেশি বেসামরিক নাবিক নিহতের দায় ইরানের ওপর চাপিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান শুধু সমুদ্রে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদেরই লক্ষ্যবস্তু করেনি, পাশাপাশি প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর বেসামরিক স্থাপনা ও আবাসিক এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব গুরুতর অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সেন্টকমের দাবি, প্রতিবেশী দেশগুলোর বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনার ওপর হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করে ইরান যে বক্তব্য দিয়েছে তা ‘মিথ্যা’। ইরান পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক অবকাঠামো ও আবাসিক এলাকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং সমুদ্রে নাবিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এসব ঘটনায় ২০ জনের বেশি নাবিকের নিহতের কথা বললেও এক্সে দেওয়া পোস্টে নিহতদের নাম, জাহাজের নাম বা হামলার নির্দিষ্ট তারিখ ও বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও কুর্দিস্তান২৪-এর প্রতিবেদনেও সেন্টকমের এই অভিযোগের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
তবে কুর্দিস্তান২৪ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) পরিসংখ্যানে ২০ জনের বেশি নাবিক ও বন্দরকর্মীর প্রাণহানির কথা থাকলেও, সেগুলোর সব কয়টির জন্য এককভাবে ইরানকে দায়ী করা হয়নি। ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দেওয়া এই সুনির্দিষ্ট দায় নির্ধারণের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরের সঙ্গে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশই এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দেশবার্তা/একে