বিশ্বজুড়ে উন্নত দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পাসের হার সব ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ বা তার বেশি নয়। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ‘Education at a Glance 2026’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সদস্য দেশগুলোতে নির্ধারিত সময়ে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার গড় হার ৭৫ শতাংশ।
প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে যেসব শিক্ষার্থীর উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার কথা ছিল, তাদের অর্জিত সনদের ওপর ভিত্তি করে দেশভিত্তিক এ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ে সনদ অর্জনে ৯৪ শতাংশ হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ইসরায়েল এবং ৯৩ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আয়ারল্যান্ড।
এছাড়া লিথুয়ানিয়ায় ৮৫ শতাংশ, স্লোভেনিয়ায় ৮০ শতাংশ, সুইডেনে ৭৯ শতাংশ, এস্তোনিয়ায় ৭৭ শতাংশ, ফিনল্যান্ডে ৭৪ শতাংশ, ইতালি ও সুইজারল্যান্ডে ৭৩ শতাংশ, নিউজিল্যান্ডে ৭১ শতাংশ, পর্তুগালে ৬৯ শতাংশ, নরওয়েতে ৬৭ শতাংশ, অস্ট্রিয়ায় ৫৯ শতাংশ এবং ডেনমার্কে ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন।
তবে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, নির্ধারিত সময়ে সনদ অর্জনে ব্যর্থ হওয়া মানেই শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া নয়। অনেক শিক্ষার্থী বাড়তি এক বা দুই বছর সময় নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। তথ্যমতে, নির্ধারিত সময়ের পর প্রথম বছরে গড়ে ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট এবং দ্বিতীয় বছরে আরও ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট সনদ অর্জনের হার বৃদ্ধি পায়।
উচ্চমাধ্যমিক পাসের ক্ষেত্রে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছেন। ওইসিডির হিসাব অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে সনদ পান ৭৮ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী, বিপরীতে পুরুষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ৭২ শতাংশ। অর্থাৎ, মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট এগিয়ে। ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও সুইডেনে এই ব্যবধান তুলনামূলক কম।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল পাসের হার দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার মান বিচার করা যায় না। কারিগরি শিক্ষার সুযোগ, সনদ অর্জনের ভিন্ন পদ্ধতি এবং সময়সীমার নমনীয়তা বিবেচনায় রাখা জরুরি।
শিক্ষক সংকট ও যোগ্যতার চ্যালেঞ্জ
উন্নত দেশগুলোতে উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষক সংকটও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওইসিডির ‘Education at a Glance 2025’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯টি দেশের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের চিত্রে দেখা যায়, প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত গড়ে ৬.৫ শতাংশ যোগ্য শিক্ষক পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।
ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া ও লিথুয়ানিয়ায় চাকরি ছাড়ার হার ১০ শতাংশের বেশি; তবে ফ্রান্স, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলে এ হার ৩ শতাংশের নিচে। এছাড়া চাকরি ছাড়া শিক্ষকদের গড়ে ৩৪ শতাংশেরই অভিজ্ঞতা ছিল ৫ বছরের কম।
শিক্ষক ঘাটতি মেটাতে গিয়ে অযোগ্য বা শর্ত পূরণ না করা শিক্ষক নিয়োগ দিতে হচ্ছে অনেক দেশকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাধ্যমিক পর্যায়ে গড়ে ৭.১ শতাংশ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ৫.৬ শতাংশ শিক্ষক পুরোপুরি যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেন না। সুইডেনে মাধ্যমিক পর্যায়ে এমন শিক্ষকের হার ২১.৬ শতাংশ, ফ্রান্সে ৯.১ শতাংশ এবং পর্তুগালে ৭.৫ শতাংশ।
শিক্ষাবিদদের মতে, কম বেতন, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও পদোন্নতির সীমিত সুযোগই দক্ষ শিক্ষকদের পেশা ছাড়ার মূল কারণ।
দেশবার্তা/একে