বরুড়ায় এইচএসসি ফলাফলে বড় ধাক্কা, শিক্ষার মানোন্নয়নে উদ্যোগের দাবি

কুমিল্লা ( বরুড়া ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

কুমিল্লার বরুড়ায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা দিয়েছে। উপজেলার কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোর অধিকাংশেই

2026-11-01T12:56:25+06:00
2026-11-01T12:56:25+06:00
রোববার ● ১ নভেম্বর ২০২৬,
১৬ কার্তিক ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
সারাদেশ
বরুড়ায় এইচএসসি ফলাফলে বড় ধাক্কা, শিক্ষার মানোন্নয়নে উদ্যোগের দাবি
কুমিল্লা ( বরুড়া ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম 
⏲
বরুড়ায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের চিত্র হতাশাজনক।
কুমিল্লার বরুড়ায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা দিয়েছে। উপজেলার কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোর অধিকাংশেই পাসের হার আশানুরূপ নয়। বিশেষ করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার মাত্র ৩১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। অন্যদিকে মাদ্রাসা (আলিম) ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। ফলাফলের এমন চিত্রে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বরুড়া উপজেলার ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠারের মধ্যে বেগম জহিরা মহিলা কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। বাকি ২২টি প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৮৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ৬৫৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৭ জন। সে হিসাবে উপজেলায় সব বোর্ড মিলিয়ে পাসের হার ৩৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উপজেলার ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ৫৬৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৪৯৯ জন। পাসের হার ৩১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ বোর্ডে শাহেরবানু আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ উপজেলার সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৯ জন কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৮০ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

অন্যদিকে খোশবাস উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৫ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উপজেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। 

এ ছাড়া ছোটতুলাগাঁও মহিলা কলেজে পাসের হার ৭৫ দশমিক ১৬ শতাংশ, হরিশপুরা কামাল হোসেন কলেজে ৭৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ, বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজে ৩২ দশমিক ০২ শতাংশ, ঝলম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ২৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ, আড্ডা ডিগ্রি কলেজে ২৪ দশমিক ০৭ শতাংশ, আগানগর ডিগ্রি কলেজে ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং পয়ালগাছা ডিগ্রি কলেজে ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় উপজেলার ১২টি মাদ্রাসা থেকে ২৫৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছেন ১২২ জন। পাসের হার ৪৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ বোর্ডে রাজামারা আলিম মাদ্রাসা সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

অন্যদিকে চালিতাতলি আলিম মাদ্রাসায় ২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৫ জন। পাসের হার ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। এছাড়া বরুড়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসায় ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ, খলারপাড় ওয়াজেদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ২৫ শতাংশ, অলীতলা ফাজিল মাদ্রাসায় ২৫ শতাংশ, কাজকামতা আলিম মাদ্রাসায় ৩১ দশমিক ৭১ শতাংশ, শাকপুর ফাজিল মাদ্রাসায় ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ, সোনাইমুড়ি ফাজিল মাদ্রাসায় ৫০ শতাংশ, বোয়ালিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৭৫ শতাংশ, একবাড়িয়া আলিম মাদ্রাসায় ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং পাঁচথুবী ফাজিল মাদ্রাসায় ৫৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বরুড়া উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছেন ৩২ জন। এ বোর্ডে সম্মিলিত পাসের হার ৪৭ দশমিক ০৬ শতাংশ। বরুড়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৬৮ শতাংশ এবং রেহানা কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজে পাসের হার ৩8 দশমিক ৮৮ শতাংশ বলে জানা গেছে।

ফলাফলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, পুরো উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৭ জন। এর মধ্যে ছোটতুলাগাঁও মহিলা কলেজ থেকে ৫ জন এবং পয়ালগাছা ডিগ্রি কলেজ থেকে ২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। অন্যদিকে শশাইয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজনও কৃতকার্য হতে পারেননি। ফলাফলের এমন চিত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনার পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকদের আশঙ্কা, এভাবে ফলাফল বিপর্যয় অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তি ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সচেতন মহলের মতে, শুধু পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। পিছিয়ে পড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করে ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। বরুড়ার শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন, প্রতিষ্ঠানপ্রধান, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

দেশবার্তা/জেএ


সর্বশেষ সংবাদ 

শ্রীপুরে জাতীয় যুব দিবসে ৭ লাখ টাকার ঋণের চেক বিতরণ
মহাদেবপুরে মৃত সন্তানের নামে শিক্ষা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ
লটারির মাধ্যমে গণপূর্তে বদলি প্রক্রিয়া বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে: মন্ত্রী
কুমিল্লায় অস্ত্র হাতে ভিডিও ভাইরাল, ‘এসবিএস’ গ্রুপের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৬৫ চরমপন্থি সদস্য

সর্বাধিক পঠিত 

উদ্বোধনের অপেক্ষায় উত্তর চট্টগ্রামের বাস টার্মিনাল, শঙ্কা যানজটের
নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ২
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে রংপুর
বরুড়ায় এইচএসসি ফলাফলে বড় ধাক্কা, শিক্ষার মানোন্নয়নে উদ্যোগের দাবি
নরসিংদীতে হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি যুবকের মরদেহ উদ্ধার
সারাদেশ- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]
Advertisement