সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, যারা চরমপন্থি বা সর্বহারা হিসেবে পরিচিত হয়েছেন, তাঁদের সবাইকে একইভাবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র নাগরিকদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করার যে সামাজিক চুক্তি করে, তা হয়তো সবার ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে কেউ কেউ বিপথে গেছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১২-এর প্রধান কার্যালয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন সিরাজগঞ্জের ৭ জন, রাজবাড়ীর ১২ জন ও পাবনার ৪৬ জনসহ মোট ৬৫ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব, বাংলাদেশের যে সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে তাদের অধিকার দেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে, সেই অধিকার যেন আমরা তাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসলে সর্বহারা একা হয় না। যারা বিপ্লবকে অন্য অর্থে ব্যবহার করবে, সে দায়িত্বটা আমাদের, এটা রাষ্ট্রের একটি সরকারের। আপনারা সবাই জানেন, বর্তমান সরকার একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে।’
প্রতিমন্ত্রী আত্মসমর্পণকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আজ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। আপনাদের কী প্রয়োজন, সেটা বর্তমান সরকার ব্যবস্থা করবে।’
অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসআরবি-১২-এর অধিনায়ক মো. আতিকুল রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম আলিম, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, রাজশাহীর অতিরিক্ত কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান এবং এসআরবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুসহ পুলিশ ও এসআরবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ