নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রতিবন্ধী মৃত সন্তানের নামে শিক্ষা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে এক নারী সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মোছা. জুলেখা খাতুন। তিনি মহাদেবপুর উপজেলার দাউল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
জানা গেছে, জুলেখা খাতুনের প্রতিবন্ধী বড় ছেলে প্রায় তিন বছর আগে মারা যায়। অভিযোগ রয়েছে, সন্তানের মৃত্যুর পরও তাঁর নামে শিক্ষা ভাতা উত্তোলন করে আসছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর ছোট ছেলে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. জান্নাতুল ফেরদাউসের দাবি, ২০২৬ সালের জুলাই মাসের বেতন-ভাতার বিবরণীতে দেখা যায়, দুই সন্তানের বিপরীতে এক হাজার টাকা শিক্ষা ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত উত্তোলন করা অর্থ সমন্বয় এবং অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মোছা. জুলেখা খাতুন জানান, ২০২৩ সালে তাঁর সন্তান মারা যায়। এরপর সন্তানের শিক্ষা ভাতা বন্ধ করার জন্য তিনি মহাদেবপুর অ্যাকাউন্টস অফিসে লিখিত আবেদন নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে বলে তাঁকে ফিরিয়ে দেন। তাঁর দাবি, ভাতা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত কোনো অনিয়ম করেননি তিনি।
সহকারী শিক্ষকের এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন মহাদেবপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান। তিনি বলেন, সহকারী শিক্ষক এ বিষয়ে তাঁকে কিছু জানাননি।
অন্যদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু রাইহান জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ