দেশ গঠনে যুবসমাজকে কর্মমুখী করার তাগিদ রাষ্ট্রপতির

দেশবার্তা ডেস্ক

জাতীয়

যুবসমাজকে দেশের প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তাদের কর্মমুখী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

2026-11-01T14:27:19+06:00
2026-11-01T14:27:19+06:00
রোববার ● ১ নভেম্বর ২০২৬,
১৬ কার্তিক ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
জাতীয়
দেশ গঠনে যুবসমাজকে কর্মমুখী করার তাগিদ রাষ্ট্রপতির
দেশবার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ২:২৭ পিএম 
⏲
সংগৃহীত ছবি
যুবসমাজকে দেশের প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তাদের কর্মমুখী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজকে কর্মমুখী করতে হবে এবং তাদের হাতে উৎপাদনের চালিকাশক্তি তুলে দিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক বিপ্লব করে পরিবর্তন আনলেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়; এর পাশাপাশি দেশ গঠনেও সমান ভূমিকা রাখতে হবে।’

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা দেশে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য এতদিন সংগ্রাম করেছি। এখন আমাদের সংগ্রামটা এই দেশকে নির্মাণ করার জন্য। বিল্ড দিস কান্ট্রি, বিল্ড দিস নেশন।’

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি যখন এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আসছিলাম বাঁ দিকে তাকিয়ে আমাদের জাতীয় সংসদ ভবন দেখতে পেলাম। তখন আমার মনে পড়ে গেল, ১৯৭৭ সালে আমাদের একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম এখানে যুব কনভেনশনের আয়োজন করেছিলেন। এরপরই এই যুব মন্ত্রণালয়, যুব অধিদপ্তর ও যুব কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তার প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। 

এরপর ডান দিকে যখন আমাদের ক্রিসেন্ট পার্কের দিকে তাকালাম, সেখানে দেখলাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার এবং একই সঙ্গে আমাদের গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার। আমার মনে পড়ল, তিনি এই দেশের যুবক-যুব নারীদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রত্যেক জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন। তার প্রতিও আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।’

দেশের জনমিতিক লভ্যাংশের (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে জনসংখ্যার কাঠামো, এতে সবচেয়ে বড় অংশই হচ্ছে যুবক। এটাকে আমরা বলছি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড। এটা আমাদের জন্য একটা বাড়তি পাওনা। আমাদের যুবকদের সংখ্যা অনেক বেশি। এটাকে যদি আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা একটা সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হব।’

বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরের প্রস্তুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা এখনো এলডিসি থেকে গ্র্যাজুয়েশন করব। একটা সময় ছিল, সেখান থেকে আরও তিন বছর সময় দেওয়া হয়েছে আমাদের। আরও তিন বছর প্রস্তুতির জন্য। অর্থাৎ আমরা উন্নয়নশীল দেশ হব। সেই কারণে আমাদের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সেই সক্ষমতা অর্জন করে আমরা একটা ডেভেলপিং কান্ট্রি বা উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হব। এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা হচ্ছে যুবসমাজের। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় প্রধান চালিকাশক্তি। আমাদের ভবিষ্যৎ যাদের হাতে, ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রধান কারিগর তারাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলতেন, যুবসমাজ আমাদের মূল্যবান মানবসম্পদ। আসলে এর চেয়ে বড় সত্য আর কিছু হতে পারে না।’

সরকারের লক্ষ্য ও অঙ্গীকারের বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের একটা অঙ্গীকার আছে, কমিটমেন্ট আছে। কমিটমেন্টটা করেছেন আমাদের বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। তিনি বারবার বলছেন, যুবকদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে। দেশ গড়ার ক্ষেত্রে, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বক্ষেত্রে তাদের প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ। এটাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত। এমন বাংলাদেশ গড়তে যুবকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে যুবসমাজের ভাগ্য পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।’

জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে আমি আনন্দিত হয়েছি। এখানে আসার পরে কয়েকটি স্টল দেখছিলাম। আমাদের যুবক ও যুব নারীদের কাজ দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি, উৎসাহিত হয়েছি, অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমাদের ছেলেমেয়েরা এত ভালো কাজ করছে। তারা অত্যন্ত স্বল্প পুঁজিতে কাজ করে এখন বিদেশে রপ্তানি করছে। তারা মার্কেট দখল করে নিচ্ছে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তারা। একজনকে দেখলাম, তিনি খাবার তৈরি করেন, মিষ্টি তৈরি করেন, বিভিন্ন রকম খাবার তৈরি করেন। তিনি এত আয় করেছেন যে শুধু পরিবারকে সাহায্যই করেননি, তাঁর মেয়েকে বিদেশে পড়াশোনার জন্য পাঠিয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের।’

নিজ এলাকার বেকারত্ব পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন আমার এলাকায় যাই, তখন খোঁজ করার চেষ্টা করি আমাদের তরুণরা কে কী করছে। বেশিরভাগই বেকার। সবাই আসে চাকরির জন্য। বলে, স্যার, চাকরি দেন, চাকরি দেন। খুব খারাপ লাগে যখন দেখি, আমাদের ক্লিনার পদেও এমএ পাস করা, সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণরা কাজ পাচ্ছে না।’

যুব অধিদপ্তরের ভূমিকা ও ক্ষুদ্র ঋণের ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই ক্ষেত্রে যুব অধিদপ্তর যে কাজগুলো করছে, সেগুলো যদি সত্যিকার অর্থে আরও গভীরভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে আমরা অনেকটা এগিয়ে যেতে পারব। যুব অধিদপ্তরের যে কার্যক্রমগুলো আছে, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য বিষয়, ঋণ দেওয়ার যে ব্যবস্থা রয়েছে, এগুলোকে যদি আরও বেশি উদ্যোগ নিয়ে যথার্থ চ্যানেলের মধ্যে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে আমরা বেকারত্বের সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব। আত্মনির্ভরশীল হতে পারব। আমরা একটা সেলফ এমপ্লয়মেন্ট গড়ে তুলতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে, যেসব উদ্যোক্তা আছেন তাদের সাহায্য করা, যতটা সম্ভব প্রশিক্ষণ দেওয়া। সেই সঙ্গে তাদের এমন একটা ন্যূনতম মূলধন দেওয়া, যাতে করে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন। এই কাজটা আমাদের করা দরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যারা ঋণ দিচ্ছেন, তারা শুধু বড় বড় কোম্পানিগুলোকে ঋণ দিচ্ছেন। ঠিক আছে, সেটাও প্রয়োজন। কিন্তু একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের যদি আমরা এভাবে সাহায্য করতে পারি, ঋণ দিতে পারি, তাহলে সবচেয়ে বেশি উপকার তারা পাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

রাজনৈতিক ও সংসদীয় চর্চা বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে ফ্যাসিস্ট একটা শক্তিকে সরিয়ে দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার একটা সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি। এই সুযোগটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। আজকে পার্লামেন্ট হয়েছে, নির্বাচন হয়েছে। আমার মনে হয়, সব রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে আমাদের যুবসমাজ বিষয়টি লক্ষ্য করবেন। এখন পার্লামেন্টকেন্দ্রিক রাজনীতি হওয়া উচিত। পার্লামেন্টের মধ্য দিয়ে সমস্ত সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

শিক্ষাব্যবস্থাকে চাহিদানুগ ও কর্মমুখী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আরেকটা সমস্যা আছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা। আমি অনুরোধ করব, শিক্ষাব্যবস্থাটাকে আসলে নিড বেইসড করা দরকার। প্রয়োজনের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা হওয়া দরকার। বিএ পাস করে কেউ চাকরি পায় না। অথচ বাবা-মায়ের জমি বিক্রি করে সবাই বিএ পাস করছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে দেখবেন, কলেজগুলো, ইউনিভার্সিটিগুলো সব এটাই করছে। অথচ ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বা বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা অনেক কম। 

আমাদের দেশের একটা বিরাট অংশ দেশের বাইরে যায়, রেমিট্যান্স পাঠায়। এটা আমাদের আয়ের একটা বিরাট উৎস। আমরা যদি শিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমিক দেশের বাইরে পাঠাতে পারি, তাহলে আমরা অনেক বেশি বাজার দখল করতে পারব, অনেক বেশি আয় করতে পারব। এই বিষয়গুলো আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। সরকারও দেখছে। এগুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আমাদের সমস্যাগুলো মিটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

ভাষণের শেষে যুবসমাজকে আশাবাদী থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা কখনোই হতাশ হতে পারি না। আমরা হতাশ জাতি নই। আমরা সব সময় লড়াই করি, সংগ্রাম করি। এই সংগ্রাম আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

দেশবার্তা/একে


সর্বশেষ সংবাদ 

শ্রীপুরে জাতীয় যুব দিবসে ৭ লাখ টাকার ঋণের চেক বিতরণ
মহাদেবপুরে মৃত সন্তানের নামে শিক্ষা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ
লটারির মাধ্যমে গণপূর্তে বদলি প্রক্রিয়া বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে: মন্ত্রী
কুমিল্লায় অস্ত্র হাতে ভিডিও ভাইরাল, ‘এসবিএস’ গ্রুপের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৬৫ চরমপন্থি সদস্য

সর্বাধিক পঠিত 

উদ্বোধনের অপেক্ষায় উত্তর চট্টগ্রামের বাস টার্মিনাল, শঙ্কা যানজটের
নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ২
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে রংপুর
বরুড়ায় এইচএসসি ফলাফলে বড় ধাক্কা, শিক্ষার মানোন্নয়নে উদ্যোগের দাবি
নরসিংদীতে হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি যুবকের মরদেহ উদ্ধার
জাতীয়- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]
Advertisement