যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। তাঁর কাজের প্রতি জনসমর্থন বা ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং’ রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত রয়টার্সের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ৩২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টির প্রতিও ভোটারদের অনীহা প্রকাশ পেয়েছে। আগামী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান- কাকে ভোট দেবেন, এমন প্রশ্নে ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা ডেমোক্রেটদের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন ৩৮ শতাংশ।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যালটে ট্রাম্পের নাম সরাসরি না থাকলেও প্রচারণায় তিনি ভোটারদের নিজের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর সতর্কবার্তা ছিল, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হলে ডেমোক্রেটরা তাঁকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের উদ্যোগ নিতে পারে।
বিভিন্ন জরিপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমছে। ওই সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে।
প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে গত এক মাস টানা জোরালো প্রচার চালিয়েছেন ট্রাম্প। সোমবার বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসির লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলে আয়োজিত বিশাল সমাবেশের মধ্য দিয়ে তাঁর এই নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়।
রাজধানীর সৌন্দর্যবর্ধন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে স্থানটির সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। তবে নির্ধারিত সময়ের কয়েক মাস পর কাজ শেষ হওয়া ছাড়াও এতে মূল বাজেটের ১০ গুণেরও বেশি অর্থ ব্যয় হয়।
শেষ মুহূর্তের প্রচারে নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া নিয়ে পুরোপুরি আশাবাদী হতে পারেননি ট্রাম্প। সোমবার তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন, তাঁর দলের জন্য এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল অর্জন কঠিন হতে পারে।
তবে একে মার্কিন রাজনৈতিক রীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, কোনো এক অজানা কারণে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন না। তবে আমরা জয়ের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি।
দেশবার্তা/একে