স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের অধিকার-স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দেশের ২২টি উপজেলায় বিশেষ পাইলট প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পর্যায়ক্রমে এই সেবা দেশের প্রতিটি উপজেলায় সম্প্রসারিত হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সিএসএফ সেন্টারে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবসের ‘আমরা করবো জয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা- বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের এই বিশেষায়িত সেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম কেবল শাহজাদপুরে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, সারা দেশের শিশুদের কাছে তা পৌঁছে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ২২টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা মাত্র দুইদিন আগে বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। পরবর্তীতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই মডেল বাস্তবায়ন করা হবে।
আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড মুহিত উল্লেখ করেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য দূর করতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দুটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং নীতি-নির্ধারণী স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি বিকল্প সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সমন্বয়ে গঠিত ‘অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি’র সভাপতির দায়িত্বেও তিনি রয়েছেন। গত আট মাসে এ সংক্রান্ত কমিটিগুলোর ৪টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেছে।
জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সংসদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সব রাজনৈতিক দলের ১০ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে ‘অল-পার্টি পার্লামেন্টারি ককাস’ গঠন করা হয়েছে, যেখানে তাকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আইনসভায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও বাজেট বরাদ্দ নিয়ে জোরালো ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
তিনি সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমুখী উদ্যোগ তুলে ধরে জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২২ উপজেলার উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ১০টি জেলায় বিশেষ সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন, যা আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধীদের জন্য ৫০ শতাংশ ভাড়া ছাড়ের সুবিধা চালু করেছে এবং রেলে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি চাকরিসহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
ড. এম এ মুহিত আরো বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষেরা কারো দয়া বা করুণা চান না, তারা রাষ্ট্রের সমান নাগরিক অধিকার চান। সাধারণ নাগরিকদের মতো তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সেই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে সিএসএফ সেন্টারের শিক্ষক, কর্মকর্তা, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ও তাদের অভিভাবকবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী শাহজাদপুরে সেরিব্রাল পালসিতে দিবস উদযাপনে সচেতনতামূলক র্যালিতে অংশ নেন এবং শিশুদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
দেশবার্তা/একে