সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেতলি ইউনিয়নে মসজিদ কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষে মো. গেদা মিয়া (৬৫) নামে এক সালিশ ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর গ্রামে ধারালো অস্ত্র নিয়ে চালানো এ হামলায় নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত মো. গেদা মিয়া লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সালিশ ব্যক্তিত্ব। আহত ব্যক্তিরা হলেন আনছার আলী, কাহির মিয়া, বশির মিয়া, তাহমিম আহমদ মুরাদ, রবিন ও বাবুলের স্ত্রীসহ ১০ জন। তাঁদের সবাইকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মসজিদ কমিটি নিয়ে নিহত গেদা মিয়ার সঙ্গে আলাউদ্দিন ও ইলিয়াস গংদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় আলাউদ্দিন ও ইলিয়াসসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে গেদা মিয়া ও বাবুলের বাড়িতে হামলা চালান।
এ সময় নিহত গেদা মিয়ার ছেলে কামালের বাড়িতে লুটপাট করা হয়। এতে গেদা মিয়া বাধা দিলে হামলাকারীরা তাঁর শরীরে ১৫ থেকে ২০টি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
গ্রামের বাসিন্দারা তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে হামলাকারীরা বাবুলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন। এ সময় রবিন মোটরসাইকেলে করে রাস্তা দিয়ে নিজ বাড়ি নিশ্চিন্তপুরে যাওয়ার পথে তাঁকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
তেতলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান জানান, হামলার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম শনিবার বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এর আগেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ