গত সাত বছরে দেশের সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সবাই নিহত হয়ে অন্তত ৩০০টি পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে পরিচালিত এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
এতে দেখা যায়- মোটরবাইক, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও বাস যাত্রী হিসেবে একই পরিবারের সব অথবা অধিকাংশ সদস্যের নিহত হওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশা দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হওয়ার ৫২৫টি অটোরিকশা দুর্ঘটনায় মোট ১ হাজার ৭২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে এক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সর্বোচ্চ ৭ জন পর্যন্ত নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি।
মোটরবাইক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও পিতা-সন্তান নিহতের ঘটনা বেশি। স্বামী-স্ত্রী নিহত হওয়ার ১৯৩টি দুর্ঘটনায় ৩৮৬ জন এবং পিতা-সন্তান নিহতের ১৫৯টি দুর্ঘটনায় ৩১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া মাইক্রোবাসের ১৮৬টি দুর্ঘটনায় ৭০৮ জন, প্রাইভেটকারের ১০৮টি দুর্ঘটনায় ৩৫২ জন, অ্যাম্বুলেন্সের ৪৫টি দুর্ঘটনায় ১৬২ জন, বাসের ৩২টি দুর্ঘটনায় ৮৫ জন এবং পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে একই পরিবারের ৪ জন নিহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে যাতায়াতের প্রবণতা বৃদ্ধি, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল, ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স, চালকদের অদক্ষতা ও বিশ্রামহীন ড্রাইভিং, মানসম্মত হেলমেটের অভাব, বেপরোয়া মোটরবাইক চালানো এবং ট্রাফিক আইন না মানাকে এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশ তুলে ধরে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ভালো মানের হেলমেট ব্যবহার, ট্রাফিক আইন মানা, মহাসড়কে রোড ডিভাইডার ও সার্ভিস রোড নির্মাণ করা এবং গ্রামীণ সড়ক সরাসরি মহাসড়কে সংযুক্ত না করে নিরাপদ রোড ডিজাইন তৈরি করা জরুরি।
এছাড়া সড়ক নজরদারি বাড়ানো, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দেন তিনি।
দেশবার্তা/একে