সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১৫ ধরনের পণ্যের দাম গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মাছের। কনজুমারস ফোরামের (সিএফ) বাজার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
রোববার সিএফের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেকের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাজধানী কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মেরাদিয়া, আফতাবনগরের ভূঁইয়া বাজার, মিনাবাজার ও স্বপ্ন সুপার শপ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাছের দাম, যা গড়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ। এছাড়া লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি ও জিরার মতো মসলায় ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যান্য পণ্যের মধ্যে জ্বালানি তেলে ৬ দশমিক ০২ শতাংশ, চিনিতে ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ভোজ্যতেল ও ডালডায় ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ, আটা-ময়দায় ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ, চালের দাম গড়ে ২ দশমিক ৬২ শতাংশ, ডিমের দামে ১ দশমিক ৪২ শতাংশ, চায়ের দামে শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মাংসের দাম শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর বিপরীতে সাতটি পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। এগুলো হলো লবণ, দুগ্ধজাত পণ্য, ব্রাশ-টুথপেস্ট, চানাচুর-বিস্কুট, নিত্যব্যবহৃত ১১টি ব্র্যান্ডের ওষুধ এবং খাতা-কলম। অন্যদিকে শাকসবজির দাম ৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সোনা-রুপার দাম ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমেছে।
শীতকালীন শাকসবজি বাজারে উঠতে শুরু করলেও উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যশোর, বগুড়া ও রংপুর এলাকার কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। ওই অঞ্চলে ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬ থেকে ১২ টাকা, মূলা ৬ থেকে ৮ টাকা, লাউ ৮ থেকে ১০ টাকা এবং কলা ৫ থেকে ৮ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ একই শাকসবজি ঢাকায় এসে ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা এবং কাঁচকলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সিএফের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছিল ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। দুই মাস মিলিয়ে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে সার্বিক নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ।
বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি জানিয়েছে, লাগামহীনভাবে পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম হবে। শুধু বেতন-ভাতা বাড়ালেই চলবে না, এর পাশাপাশি শহর-নগরে বাড়ি ও দোকানভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির নাগালের মধ্যে রাখতে হবে।
মাত্রাতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের লাগাম টেনে ধরতে এবং প্রয়োজনে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যয় ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার দাবি জানিয়েছে কনজুমারস ফোরাম।
দেশবার্তা/একে