বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই এবং রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার ও কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে এই যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-রাশিয়া বিজনেস ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। যৌথভাবে আয়োজিত এই সংলাপে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
চুক্তি অনুযায়ী, দুদেশের ব্যবসায়ী, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে উভয় পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এ ছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ, তথ্য বিনিময়, যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিজনেস মিশন এবং বাণিজ্য মেলা ও বিনিয়োগ ফোরাম আয়োজনে পরস্পরকে সহযোগিতা করা হবে।
স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় ধরনের বাধা না থাকলেও ছোটখাটো যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে যৌথভাবে দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।
রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের প্রধান ইলিয়া শেস্তাকভ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্যের পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশ রাশিয়ার অন্যতম শীর্ষ অংশীদার। তিনি জানান, বাংলাদেশে কৃষিপণ্য, খাদ্য ও সার সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও ই-গভর্ন্যান্স খাতে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী রাশিয়া।
তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে টেকসই দ্বিপক্ষীয় অর্থ পরিশোধ অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ দিয়ে বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সহজ করা, পণ্য পরিবহনব্যবস্থা উন্নত করা এবং বাজারে প্রবেশের প্রতিবন্ধকতা দূর করা প্রয়োজন। এর বাইরেও শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশবার্তা/একে