ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী টাউন খাল দখল ও দূষণমুক্ত করে নান্দনিক করার উদ্যোগ নিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে পৌরসভা টাউন খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান, এবং খালটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে দ্রুত বর্জ্য অপসারণসহ করণীয় বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলাম, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাউসার আহমেদ, শহর পরিকল্পনাবিদ জান্নাতুল ফেরদৌস আরা এবং অন্যান্য পৌর কর্মকর্তারা।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান সংক্রান্ত বক্তব্যে প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, উন্নত দেশের মতো টাউন খালকে নান্দনিক ও উপভোগ্য করে তোলার জন্য একটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্টদের অভাবী মনোভাব এবং জনগণের অসচেতনতার কারণে শহরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম খালটি সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। খালটিকে দূষণমুক্ত ও দখলমুক্ত করে ওয়াকিংওয়ে নির্মাণ, দুইপাশে বৃক্ষরোপণ এবং আলোকসজ্জা করা হবে। পাশাপাশি কেউ যেন নির্বিচারে বর্জ্য না ফেলে, তার জন্য কঠোর নজরদারি করা হবে।
জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ময়লা-আবর্জনায় একেবারেই সয়লাব অবস্থায়। তিতাস নদীরও করুণ দশা। শহরের পানি নিষ্কাশনের টাউন খালও বর্জ্য দিয়ে ভরা অবস্থায় রয়েছে, ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগেও খাল পুনঃরুদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সফলতা আসেনি। সবদিক বিবেচনা করে পৌর প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে এবার একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খাল পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে বর্জ্য অপসারণের জন্য পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নেওয়া হবে। বিভিন্ন বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ, পরিবেশবিদ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সবাইকে যুক্ত করে খালকে অবৈধ দখলমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিকভাবে পুনঃরুদ্ধার করা হবে।
প্রসঙ্গত, শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া টাউন খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ কিলোমিটার। এটি পৌর এলাকার গোকর্ণঘাট তিতাস নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে টান বাজার এলাকার তিতাস নদীতে মিলিত হয়েছে। খালটি শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শহরের দুই অংশকে সংযুক্ত করেছে, এবং এক সময় খালটির মাধ্যমে বড় বড় নৌকায় ঢাকা, ভৈরব, নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পণ্য আনা-নেওয়া হতো। এর আগেও কয়েক দফায় খাল পরিচ্ছন্ন ও পুনঃরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী হয়নি।
দেশবার্তা/একে