‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) সকাল ৯ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা হয়। জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)’র সহযোগিতায় সভায় প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ,জে,এম রেজাউল আলমের সভাপতিত্বে সুপারিশমালা উত্থাপন করেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সুনামগঞ্জ’র সভাপতি কানিজ সুলতানা। এগুলো হলো- নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়ায় সত্যিকারের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক কাঠামো মজবুত করাসহ দলীয় নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পুঁজি হিসেবে অর্থ, পেশী, ধর্ম ও পুরুষতান্ত্রিকতার ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সংসদ নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০ তে উন্নীত করতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা ব্যয় বহনের বিধান প্রণয়ন করতে হবে।
নারী অধিকার রক্ষা ও তদারকির জন্য একটি স্বতন্ত্র ও স্থায়ী নারী কমিশন গঠন করতে হবে।
আইএলও কনভেনশন ১৮৯ ও ১৯০ অনুস্বাক্ষর ও পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। ২০০৯ সালের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশাবলি আইনে পরিণত এবং নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ হালনাগাদ করার পাশাপাশি, সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। অন্য সকল মাধ্যম ও পদ্ধতির পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীবিদ্বেষী প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা সংশোধন করতে হবে।
জাতীয় ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধের পূর্বশর্ত হিসেবে নানা অজুহাতে যত্রতত্র হেনস্থা রোধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি রাষ্ট্রকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সকল প্রকার নারী অধিকার হরণের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ করে প্রশাসন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি প্রতিরোধ, শুদ্ধাচার, জবাবদিহিতা ও সার্বিক সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাঙ্গনে বা সমাজে নারীর সমান সুযোগ দেওয়ার জন্য কাজ করছেন তাদের উৎসাহিত, সঠিক প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদান করতে হবে।
নারীদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল বিনিয়োগ ও বরাদ্দকৃত বাজেটের স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যেন প্রকৃতপক্ষে নারীরাই উপকৃত হন। নারীদের জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সরকারি ও বেসরকারি উভয়ভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। এর জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
সকল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তাসহ একটি নারীবান্ধব অভিযোগ প্রদান ও নিরসনের ব্যবস্থা থাকতে হবে; নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বন্ধে ব্যক্তির রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান, মর্যাদা ও প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করতে হবে।
নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ ও নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে সাধারণ জনগণের ইতিবাচক মানসিকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যকর প্রচারণামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ও দলিতসহ সকল প্রান্তিক নারীদের অধিকার নিশ্চিতে বিশেষায়িত সময়াবদ্ধ পথরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ