পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই এবং এটি কোনোভাবেই দলীয়করণ করা হবে না।
মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরের জগন্নাথপুর আধুনিক অডিটোরিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পাইলট প্রকল্প হিসেবে এদিন বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আর্থিকভাবে অসচ্ছল ৮৬টি পরিবারের নারী প্রধানদের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাবে, যা সরাসরি সুবিধাভোগীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড হবে সর্বজনীন। নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয়ভাবে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে। সরকার তার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন শুরু করেছে। আগামী বাজেট থেকে এই সুবিধা ধীরে ধীরে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। দেশের প্রান্তিক ও আর্থিক দিক থেকে দুর্বল মানুষদের সরকার সবার আগে বিবেচনায় এনেছে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি দল একজন উপদেষ্টার কথা বিকৃত করে নির্বাচনকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে, যা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ছাড়া আর কিছু নয়। শহীদের রক্তের ঋণে আবদ্ধ এই দেশে জনগণের স্বার্থভিত্তিক রাজনীতিই টিকে থাকবে এবং অপরাজনীতি মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এ খালেক।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আজম, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীন, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুসা।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে দেশের ১৪টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রতিনিধি/একে