পবিত্র ঈদুল ফিতরের এখনো প্রায় এক সপ্তাহ বাকি। তবে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। শেষ মুহূর্তের হুড়োহুড়ি আর অসহনীয় ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে।
শনিবার সকালে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ সপরিবারে রওনা হয়েছেন, আবার কেউ ঝামেলা এড়াতে পরিবারের অন্য সদস্যদের আগেভাগে গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
বিশেষ ব্যবস্থায় ঈদ উপলক্ষ্যে ট্রেনযাত্রার আজ দ্বিতীয় দিন। সকালে স্টেশনে বুড়িমারী এক্সপ্রেসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন শিক্ষার্থী মিরাজ উর রহমান। তিনি যাবেন কাউনিয়া স্টেশনে। মিরাজ বলেন, ঈদ সামনে এলেই বাড়ির টান অন্যরকম হয়ে ওঠে। উত্তরবঙ্গের পথে ট্রেনই সবচেয়ে আরামদায়ক ও নিরাপদ বাহন। দীর্ঘ পথের ক্লান্তি এড়াতে এবং ভিড় শুরুর আগেই বাড়ির পথ ধরেছেন বলে জানান তিনি।
একই চিত্র দেখা গেল জামালপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী হুমায়ূন আহমেদ হিমুর ক্ষেত্রেও। তিনি তার মা ও ছোট বোনকে নিয়ে আগেভাগেই রওনা হয়েছেন। হিমু জানান, ঈদের কেনাকাটা আগেই শেষ করেছেন। এখন স্টেশনে তেমন ভিড় নেই বলেই এই সিদ্ধান্ত। তার বাবা ১৭ মার্চ ঢাকা ছাড়বেন, তবে পরিবারের বাকি সদস্যদের আজ নিজেই স্টেশনে পৌঁছে দিয়ে গেছেন।
হিমুর মতে, তাদের ঈদের আনন্দ আজ থেকেই শুরু হয়ে গেল।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে মোট ৩০টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যাবে। এসব ট্রেনের মোট আসন সংখ্যা ২৮ হাজার ৯২৬টি। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলের ১৬ হাজার ১৯৪টি এবং পশ্চিমাঞ্চলের ১২ হাজার ৭৩২টি আসন গত ৪ মার্চ অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি শেষ হয়েছে। যাত্রীচাপ সামলাতে স্টেশনের প্রবেশপথে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
স্টেশনে প্রবেশের সময় দুই দফায় টিকিট পরীক্ষা করা হচ্ছে। দায়িত্বরত ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনাররা (টিটিই) জানান, টিকিট ছাড়া কাউকেই প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে কোনো পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হলে এবং তাদের কাছে টিকিট কম থাকলে, নির্ধারিত ভাড়ায় স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বিনা টিকিটের যাত্রী রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী।
দেশবার্তা/একে