তিনটি বছর—দীর্ঘ এক হাজারেরও বেশি দিন। এই দীর্ঘ সময় ফরিদপুরের সজিব মিয়া তার হারিয়ে যাওয়া সন্তান ইদ্রিসের পথ চেয়ে কাটিয়েছেন। অন্যদিকে, পথ হারিয়ে ১১ বছর বয়সী ইদ্রিস অচেনা শহর আর কলকারখানার ভিড়ে খুঁজে বেড়িয়েছে নিজের ঘর। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান হলো।
গত শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে শিবচর থানা পুলিশের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইদ্রিস ফিরে পেল তার পরিবারকে। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুলিশ এই অভাবনীয় মিলনের খবর নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শিবচর উপজেলার উৎরাইল এলাকায় একটি শিশুকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয় যুবকেরা। শিশুটি নিজের নাম ও বাবার নাম বলতে পারলেও বাড়ির ঠিকানা বলতে পারছিল না। কোনো উপায় না দেখে যুবকেরা তাকে শিবচর থানায় পৌঁছে দেন। এরপরই শুরু হয় পুলিশের এক মানবিক মিশন। উপজেলা সমাজসেবা অফিসের সহযোগিতায় ইদ্রিসের ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো হয়।
প্রচারণাটি নজরে আসে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার বাসিন্দা সজিব মিয়ার। ছবিতে নিজের হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে চিনতে পেরে তিনি দ্রুত শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং স্বজনদের নিয়ে মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। শনিবার রাত ১০টার দিকে থানায় পৌঁছে সজিব মিয়া যখন তার ছেলেকে ফিরে পান, তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ তিন বছর পর বাবা-ছেলের এই পুনর্মিলন দেখে উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষের চোখে জল চলে আসে।
ইদ্রিস জানায়, তিন বছর আগে ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ীর আনন্দ বাজার যাওয়ার পথে সে পথ হারিয়ে ফেলে। এরপর থেকে সে বিভিন্ন হাট-বাজার ও কলকারখানায় কাজ করে জীবন চালিয়েছে। রাস্তাঘাট না চেনায় এবং এলাকার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা মনে না থাকায় সে আর বাড়ি ফিরতে পারেনি। সজিব মিয়া তার হারানো মানিককে ফিরে পেয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পুলিশ কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেও কাজ করে। শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারা আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। জনহিতকর ও মানবিক এমন কাজে পুলিশ সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে।’ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইদ্রিসকে তার বাবার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/একে