মোস্তাফিজার বাবলু, রংপুর

সারাদেশ

2026-05-09T17:43:31+00:00
2026-05-09T17:43:31+00:00
শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬,
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English

শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬
চলমান বার্তা:
সারাদেশ
রংপুরের পোশাক শ্রমিক দম্পতির শিশু নীলফামারীতে অপহরণ, উদ্ধারে আদালতে মামলা
মোস্তাফিজার বাবলু, রংপুর
প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৫:৪৩ পিএম 
রংপুরের এক পোশাক শ্রমিক দম্পতি তাদের অপহৃত কন্যা শিশুকে ফেরত পেতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। প্রায় তিন বছর বয়সী ওই শিশুর নাম মারিয়া আক্তার ইভা।

শনিবার (৯ মে) বিকেলে মাইদুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সরল মনে দাওয়াত খেতে গিয়ে নিজের ঔরসজাত কন্যা শিশুকে হারিয়ে আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমি এবং আমার স্ত্রী রিপনা খাতুন ভালো-মন্দ খেতে বসলে সন্তানের মুখটা চোখে ভেসে ওঠে। তখন আর খেতে পারি না। রাতে ঠিকমতো ঘুমও হয় না। কাজের সময় কিছুটা স্বাভাবিক থাকি, কিন্তু রুমে ফিরলেই সন্তানের কথা মনে পড়ে।”

জানা যায়, রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের রাজবল্লভ গ্রামের বাসিন্দা আলামিন হোসেনের পুত্র মো. মাইদুল ইসলাম স্ত্রী রিপনা খাতুন ও কন্যা শিশু মারিয়া আক্তার ইভাকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছিলেন।

এরই মধ্যে মাইদুল-রিপনা দম্পতির সঙ্গে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার পূর্ব শিমুলবাড়ী গ্রামের আব্দুস জব্বার মিয়ার পুত্র ইয়াকুব মিয়ার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ইয়াকুব মিয়া তাদের দাওয়াত দেন।

গত ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ইয়াকুব মিয়ার বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার পর বিকেলে নিজ বাড়িতে ফেরার সময় মাইদুল-রিপনা দম্পতির কন্যা শিশু মারিয়া আক্তার ইভাকে আটক করেন ইয়াকুব মিয়া। এ সময় তিনি শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এতে দম্পতি অস্বীকৃতি জানালে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রলোভন দেখানো হয়।

তাতেও সম্মতি না পাওয়ায় মাইদুল-রিপনা দম্পতিকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে ভুয়া দত্তকনামা তৈরি করে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এ ঘটনায় নিরুপায় হয়ে মাইদুল-রিপনা দম্পতি জলঢাকা থানায় অভিযোগ করেন। পরে থানার পরামর্শে নীলফামারী জজ আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেন তারা, ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায়।

পরে জলঢাকা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মারিয়া আক্তার ইভাকে উদ্ধার করে ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই নীলফামারী আদালতে হাজির করে। এরপর আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের শুনানির পর শিশুটিকে ইয়াকুব মিয়ার জিম্মায় সাত দিনের জন্য দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকে ইয়াকুব মিয়া, শেফালী বেগম ও ইকরামুল হক একরা এবং তার ছেলে শামীম ও সোহেলসহ শিশুটিকে নিয়ে প্রায় আট মাস ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইয়াকুব মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান বলেন, “আমরা আশা করছি, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মাইদুল ইসলাম তার অপহৃত কন্যা শিশু মারিয়া আক্তার ইভাকে ফেরত পাবেন।”

প্রতিনিধি/আরএইচ


সর্বশেষ সংবাদ 

দিনাজপুরে পক্ষকালব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সমাপ্তি
২ কোটি রুপির লোভও টলাতে পারেনি সাই পল্লবীকে, কারণ জানলে অবাক হবেন
বন্ধ কারখানা চালু করে বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা
সরকারের কত সন্ত্রাসী আছে, আমরা দেখবো: নাহিদ ইসলাম
কাফকোর কাছ থেকে ১৩২ কোটি টাকার ইউরিয়া সার কিনবে সরকার

সর্বাধিক পঠিত 

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আইন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত
গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
কুমিল্লায় শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটক
‘পাতার বাঁশরি’র পেছনের গল্প ও নিজের ভাবনা জানালেন সুনিধি
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ গ্রেপ্তার
সারাদেশ- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
আহমেদ টাওয়ার ( লেবেল ১২),২৮ ও ৩০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ
বনানী, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। শামীম প্রিন্টিং প্রেস, ১৯৪/৫ ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা -১০০০ থেকে মুদ্রিত।
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]