অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং যমুনা সেতুর সংযোগ সড়কে একাধিক গাড়ি বিকল হওয়ার ঘটনায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে পৌলি পর্যন্ত এই যানজট ছড়িয়ে পড়ে। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপের মধ্যে এই তীব্র যানজটের কারণে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, যার মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।
ফিরতি মানুষের এই চাপের মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি লক্কর-ঝক্কর যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। এসব যানবাহন রেকারের মাধ্যমে সরিয়ে নিতে গিয়ে বারবার যান চলাচল ব্যাহত হয়।
এর মধ্যে শুক্রবার রাতে যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে একটি বাসের পেছনে আরেকটি বাস ধাক্কা দিলে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সেতুতে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, সিরাজগঞ্জ মহাসড়ক স্বাভাবিক থাকলেও সেতুতে একের পর এক গাড়ি বিকল হওয়ার কারণেই এই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
যানবাহনের এই তীব্র চাপের মধ্যেও গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে রেকর্ড পরিমাণ টোল আদায় হয়েছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর ওপর দিয়ে মোট ৪০ হাজার ৫৮০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যার বিপরীতে মোট ৩ কোটি ১৪ লাখ ২৭ হাজার ২৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে।
এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ১৫ হাজার ৪৪৮টি যানবাহন থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং ঢাকাগামী ২৫ হাজার ১৩২টি যানবাহন থেকে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫০ টাকা টোল আদায় হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যমুনা সেতুর দুই পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে, যার মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য রয়েছে আলাদা দুটি বুথ।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন এবং এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জুয়েল মিয়া জানিয়েছেন, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও রাতে গাড়ি বিকল হওয়ার কারণে এই যানজট তৈরি হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুতই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
দেশবার্তা/একে