মুক্তেশ্বরী নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, জিয়া খাল পুনঃখনন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে রোববার (৭ জুন) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন’।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, মুক্তেশ্বরী নদী যশোরের দক্ষিণাঞ্চলসহ বৃহত্তর এলাকার পরিবেশ, কৃষি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখল, নদী ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে নদীটির অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে খনন করা ঐতিহাসিক জিয়া খাল বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে গেছে। নদী ও খালের জমি ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে শ্রেণি পরিবর্তন করে আত্মসাৎ, ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের ফলে যশোর শহর, সেনানিবাস এলাকা এবং বিল হরিণা অঞ্চলে জলাবদ্ধতা ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রতি বর্ষায় হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অসংখ্য বাড়িঘর।
এ পরিস্থিতিতে মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো— মুক্তেশ্বরী নদীর সকল অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে সিএস রেকর্ড অনুযায়ী পুনঃখনন, জিয়া খাল পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করা, উজানে ভৈরব নদীর সঙ্গে মুক্তেশ্বরীর সংযোগ পুনঃস্থাপন, নদী ও খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর সঙ্গে উজানের নদীর সংযোগ স্থাপন করে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব রাশেদ খান, হারুন অর রশিদ, অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, জিল্লুর রহমান ভিটু, আবু হাসান, বিল হরিণা বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ ময়না, শাহজাহান আলী, হাচিনুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবু কায়েস, শরিফ আহমেদ বাপ্পি, মুস্তাফিজুর রহমান কবির, যোগেষ দত্ত, শেখ আলাউদ্দিন, রিয়াদ রহমান, অ্যাডভোকেট ইমরান খান, ইব্রাহিম খলিল, রিয়াদ রায়হানসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তেশ্বরী নদী শুধু একটি নদী নয়; এটি যশোর অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য, কৃষি উৎপাদন এবং মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নদীটি মৃতপ্রায় হয়ে গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা সংকট আরও তীব্র হবে এবং বিল হরিণাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে।
তারা অবিলম্বে নদীটি দখলমুক্ত করে পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ