নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে।
গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন তাঁর স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।
জানা গেছে, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সুবাদে লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। ২০২১ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। এটি লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে ছিল। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন লিমন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিয়ে করায় পরিবারে কলহ শুরু হয়। পরে লিমনের প্রথম স্ত্রী তাঁর কন্যাসন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান। লিমন এলাকায় চায়ের দোকানের পাশাপাশি কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, লিমনের অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী সুমনা টিকটকে ভিডিও পোস্ট করতেন এবং অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। সোমবার সকাল আটটার দিকে টিকটকে ভিডিও পোস্ট ও আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদানের বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে আবার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে লিমনের আঘাতে সুমনা রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে লিমন তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘরের আড়ার সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে দেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন লিমন। পুলিশ জানায়, সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে যান লিমন। সারাদিন কাজ শেষে বিকেল পাঁচটার দিকে বাড়িতে ফিরে ঘরের দরজা খুলে নিজেই চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠায়। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে পুলিশের সন্দেহ হলে রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে আটক করা হয়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক লিমন তাঁর স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। মূলত হত্যাকাণ্ডটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্যই তিনি মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
প্রতিনিধি/একে