লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামে সাত বছরের শিশু নন্দিনী রানী হত্যার ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র (২০) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় বিধান ও তার বাবা রনজিত কুমারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক রয়েছেন বিধানের মা মমতা রানী।
পুলিশ জানায়, প্রায় দুই মাস আগে সেচের পানি নিয়ে নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে আসামি পরিবারের বিরোধ হয়েছিল। সেই বিরোধের জের ধরে প্রতিশোধ নিতে নন্দিনীকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন বিধান। পরে মরদেহ গোপন করতে তাকে সহায়তা করেন তার বাবা ও মা।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু সাঈদ মো. আইয়ুব তুহিন জানান, ভুট্টাখেত থেকে মরদেহ পুঁতে রাখতে ব্যবহৃত একটি কোদাল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার আগে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
গত সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় নন্দিনী। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা আসামির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হন এবং ডিসি ও এসপির গাড়িসহ কয়েকটি সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
এদিকে নিহত নন্দিনীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদিতমারী আসছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। একই দিনে লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ