পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) দুই দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন পাওয়ার, ইলেকট্রনিক্স, কমিউনিকেশনস, কম্পিউটিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে।
এতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন।
সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস, পাওয়ার ও এনার্জি সিস্টেম, যোগাযোগ প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক ও নিরাপত্তা, স্মার্ট প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো, অ্যাডভান্সড ইলেকট্রনিক্স, ভিএলএসআই এবং এমবেডেড সিস্টেমের মতো সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হচ্ছে।
বুধবার সম্মেলনের প্রথম দিনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাপানের ইউনিভার্সিটি অব আইজু-এর অধ্যাপক ড. জুংপিল শিন। প্রথম দিনে শতাধিক গবেষক ১৮০টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। দুই দিনে মোট ৩৯টি সেশনে ৩০৮টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শিক্ষার উন্নয়ন, মানবসম্পদের মানোন্নয়ন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর। সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সে লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে স্মার্ট সিটি গড়ে তোলা হচ্ছে। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে সরকারের সফলতা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এ ধরনের সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকদের সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সেতুবন্ধন তৈরি হবে। এতে শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন গবেষণায় উদ্বুদ্ধ হবে। শিক্ষার টেকসই উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, “জ্ঞান সৃষ্টির প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত করাই নয়, সামাজিক সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রাখা। মানবজাতি বর্তমানে অভূতপূর্ব রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই রূপান্তরে বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদের মতো নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জন্য প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের সঙ্গে কাজ করার বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গবেষণা কৌতূহল থেকে শুরু হয়, সহযোগিতার মাধ্যমে তা বিকশিত হয় এবং সমাজে প্রভাব সৃষ্টি করে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে। এ ধরনের সম্মেলন পণ্ডিত ব্যক্তিদের সঙ্গে আমাদের তরুণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতবিনিময়ের মূল্যবান সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এখান থেকে নতুন ধারণা, গবেষণার দিকনির্দেশনা ও পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীরা আরও বেশি গবেষণামুখী হবেন।”
ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক ড. শেখ আনোয়ারুল ফাত্তাহ, অধ্যাপক ড. সিলিয়া শাহনাজ, অধ্যাপক ড. মো. ইমামুল হাসান ভূঁইয়া এবং সম্মেলনের আহ্বায়ক ও ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসেন।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সম্মেলনের দ্বিতীয় ও সমাপনী দিনে শতাধিক দেশি-বিদেশি গবেষক তাঁদের গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ