প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের প্রথম বিদেশ সফরে সস্ত্রীক মালয়েশিয়া ও চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সরকারের ৮ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা।
রোববার (২১ জুন) বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ৮ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা হলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত। এছাড়াও উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) মাহদী আমিন, পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তাদের সাথে আরও রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক) তানভীর গনি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুরজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই রাষ্ট্রীয় সফর উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাজে সেজেছে মালয়েশিয়ার রাজধানী। কুয়ালালামপুরের পথে পথে এখন শোভা পাচ্ছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা। মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় আজ রাত পৌনে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ সোমবার (২২ জুন) সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারকসহ সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আরও দুটি দলিল সই হওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, এই বৈঠকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের আরও কর্মী নেওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি আসিয়ান জোটের ডায়ালগ পার্টনার হওয়া এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়ার জোরালো সমর্থন বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা হবে।
মালয়েশিয়ার সফর শেষ করে সোমবার বিকেল বা রাতের ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী চীনের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। চীন সফরের শুরুতে ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ‘সামার দাভোস ফোরাম’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেবেন।
এরপর সফরের চূড়ান্ত পর্যায়ে আগামী ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতসহ প্রায় ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সফর শেষে আগামী ২৬ জুন (শুক্রবার) প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।