নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে একই সময়ে সামনে এসেছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎ। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কূটনৈতিক কুশল বিনিময় এবং বিল ও হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আলোচনা।
ঘটনাগুলো আলাদা, ব্যক্তিরাও আলাদা। কিন্তু একই সময়ে নিউইয়র্কে এমন তিনটি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ঠিক কোন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
তুর্কি হাউসে বাংলাদেশ-তুরস্ক বৈঠক
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছেই ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজার তুর্কি হাউসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্ক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই নেতা মতবিনিময় করেন।
ট্রাম্প ও ড. খলিলুর রহমানের কুশল বিনিময়
দ্বিতীয় দৃশ্যটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভাষণ শেষে ট্রাম্পের সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত মতবিনিময় হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড. খলিলুর এটিকে ‘পার্সোনাল এক্সচেঞ্জ’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, সেখানে দুজন শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ট্রাম্প তাকে ধন্যবাদ জানান।
ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভে অধ্যাপক ইউনূস
তৃতীয় দৃশ্যটি এসেছে অন্য এক আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে-ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের বার্ষিক সভা। নিউইয়র্কে আয়োজিত এই সম্মেলনে অংশ নেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈশ্বিক সংকট, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক সুযোগ ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিষদ আলোচনা হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে তার বিশেষ সাক্ষাৎ ঘটে।
কূটনৈতিক সমীকরণের নতুন ইঙ্গিত?
তিনটি দৃশ্য পাশাপাশি রাখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়-নিউইয়র্কে বাংলাদেশের উপস্থিতি কেবল একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নেই। দৃশ্যমান তথ্য বলছে, বাংলাদেশ একই সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসরে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে।
একটি ছবিতে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, অন্যটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশল বিনিময়, আর তৃতীয়টিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের নোবেলজয়ীর সাক্ষাৎ।
তিনটি আলাদা দরজা, তিনটি আলাদা কূটনৈতিক ক্ষেত্র। প্রশ্ন এখন একটাই-এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগগুলো কি কেবল নিউইয়র্কের কয়েক দিনের সাময়িক কূটনৈতিক ব্যস্ততা, নাকি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা?
দেশবার্তা/এসএস/একে