টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস-দুধপুকুরিয়া এলাকার রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ধসে গেছে। এতে ওই এলাকাসহ রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
একই সময়ে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজঘাট সেতুর একটি অংশ ধসে পড়েছে। ফলে এ সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ছড়া ও নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে দুধপুকুরিয়া এলাকার রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে এবং কৃষিজমি, মাছের ঘেরসহ স্থানীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
অন্যদিকে, পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের ব্রিজঘাট সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে জরুরি রোগী পরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দূরপাল্লার যানবাহন বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হলেও অনেক এলাকায় বিকল্প সড়ক না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় পাহাড়ি ঢলের কারণে একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ কমছে না। তারা দ্রুত বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সেতু সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
রাজস্থলী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, “রাতভর বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ করেই বাঁধ ভেঙে যায়। সকালে উঠে দেখি চারদিকে শুধু পানি। ঘরবাড়ি, ফসল—সবই ক্ষতির মুখে পড়েছে। এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।”
পথচারী মো. আলী আকবর বলেন, “ব্রিজঘাট সেতু ভেঙে যাওয়ায় রাঙামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার এবং অপ্রয়োজনে পাহাড়ি ঢলের মধ্যে চলাচল না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বান্দরবান সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, “আমি নিজেও পরিবার নিয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। সেতুটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
প্রতিনিধি/আরএইচ