৩৮.৬ শতাংশ বাংলাদেশির স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই

জাতীয়

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩৮.৬ শতাংশ বা প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার

2026-07-22T14:38:20+06:00
2026-07-24T17:02:43+06:00
বৃহস্পতিবার ● ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৯ আশ্বিন ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
জাতীয়
৩৮.৬ শতাংশ বাংলাদেশির স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই
জাতিসংঘ প্রতিবেদন
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৮ পিএম  আপডেট: ২৪.০৭.২০২৬ ৫:০২ পিএম
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩৮.৬ শতাংশ বা প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য হারাচ্ছেন, যা প্রতি পাঁচজনে প্রায় দুজনের সমান। ২০২৬ সালের ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থা—এফএও, ইফাদ, ইউনিসেফ, ডব্লিউএফপি এবং ডব্লিউএইচও-এর যৌথ উদ্যোগে ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬’ শীর্ষক একটি নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ডাটা অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় পুষ্টিকর খাবার কেনার অক্ষমতার দিক থেকে পাকিস্তানের (৬৩%) পরেই বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত ‘স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা’ বলতে মূলত একজন মানুষের দৈনিক মাথাপিছু ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তি জোগাতে সক্ষম খাবারকে বোঝানো হয়েছে। এই পুষ্টির চাহিদার মধ্যে শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শুঁটি জাতীয় খাবার, বাদাম ও বীজ, শাকসবজি, ফলমূল এবং তেল-চর্বিসহ মোট ছয়টি জরুরি খাদ্যগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য এই সুষম ও পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত সংগ্রহ করা অর্থনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্বজুড়ে পুষ্টিহীনতার চিত্র এবং বাংলাদেশ পরিস্থিতিজাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৬৯ কোটি মানুষ (৩২.৭ শতাংশ) স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য হারিয়েছেন। ভৌগোলিক বিবেচনায় আফ্রিকায় এই হার সর্বোচ্চ ৬৬.৬ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে এশিয়া (২৮.৯ শতাংশ) এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল (২৫.৭   শতাংশ)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন জানান, মাছ, মাংস, দুধ ও ফলের চড়া দামের কারণে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের পুষ্টিকর খাবার কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্ববাজারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্থানীয় বাজারে দ্রুত পড়লেও, দাম কমার সুফল ভোক্তারা সহজে পান না।স্বাস্থ্যকর খাবারের খরচ বৃদ্ধি এবং ক্রয়ক্ষমতার পরিবর্তনবাংলাদেশে ২০১৭ সালে স্বাস্থ্যকর খাবারের দৈনিক গড় ব্যয় ছিল ৩.৯ ডলার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৪.৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই খরচের বড় অংশই ব্যয় হয় প্রাণিজ আমিষ, ফলমূল ও শাকসবজি কিনতে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভুটান (৬.১৭ ডলার) ও শ্রীলঙ্কার (৫.২১ ডলার) পরেই সবচেয়ে ব্যয়বহুল খাবার বাংলাদেশে। বিপরীতে, পাকিস্তানে পুষ্টিহীন মানুষের হার সবচেয়ে বেশি হলেও খাবারের খরচ এ অঞ্চলে সর্বনিম্ন (৩.৯৪ ডলার)। তবে আশার কথা হলো, দাম বাড়লেও আয়ের অনুপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশিদের ক্রয়ক্ষমতা উন্নত হয়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে ৬২.৮ শতাংশ (১০ কোটি ১৮ লাখ) মানুষের সামর্থ্য ছিল না, ২০২৫ সালে তা কমে ৩৮.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রতিবেদনের প্রধান সুপারিশমালায় রয়েছে ব্যয় সংকোচন, অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক বাজার মনিটরিং এবং অপচয় রোধ।

দেশবার্তা/এসবি



  বিষয়:   জাতিসংঘ  স্বাস্থ্যকর  খাবার 


সর্বশেষ সংবাদ 

নিউইয়র্কে তিন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ, কূটনৈতিক সমীকরণের কোন বার্তা?
ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
মোরেলগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু, হত্যা নাকি আত্মহত্যা তদন্তে পুলিশ
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সমাবেশ ও মিছিল
সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণ নিহত

সর্বাধিক পঠিত 

এনসিপির রাজশাহী জেলা কমিটির সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়
২২ বছর পর বাবার স্বপ্নের হাসপাতাল উদ্বোধন করলেন গণপূর্তমন্ত্রী
নিউইয়র্কে তিন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ, কূটনৈতিক সমীকরণের কোন বার্তা?
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র
রাস্তা বন্ধ করে ঘর নির্মাণ, সাটুরিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭
জাতীয়- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]