জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার ছয় দিনের মাথায় স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদ গ্রেফতার হয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি থাকা সত্ত্বেও এরশাদকে গ্রেফতারের নজির রয়েছে। তাহলে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে কেন গ্রেফতার করা যাবে না?’
রোববার (২৬ জুলাই) রাত ৯টায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা শহরের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এনসিপির ‘জুলাই পথসভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ‘সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সংবিধানের দোহাই দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি যেমন বলছেন, যারা গ্রেফতারের কথা বলছেন তারা সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ পড়ুক, তেমনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার করা যায় না। আমাদের প্রশ্ন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করার পরও কি তিনি রাষ্ট্রপতি আছেন? বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রয়েছেন মাননীয় স্পিকার। আমরা বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতারের কথা বলিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। কিন্তু তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে না থাকলে তাকে গ্রেফতারে কোনো আইনি বাধা নেই। তাই ৫১ অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে চুপ্পুর গ্রেফতার ঠেকানো যাবে না।’
সংবিধান সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা কখনো সংবিধানের ভেতরে থেকে সংবিধান সংস্কারের কথা বলিনি। বরং সমাধান না থাকায় আমরা জনগণের কাছে গিয়েছিলাম। সংবিধানের চেয়ে জনগণ বড়। জনগণ যখন রায় দিয়েছে, তখন সেই গণরায়কে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক ও মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, জাতীয় ছাত্র শক্তির সভাপতি জাহিদ হাসান, জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ডা. মাহামুদা মিতু (এমপি), এনসিপি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক আমিরুল বাসার বিপ্লব এবং সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন প্রমুখ।
প্রতিনিধি/আরএইচ