নরসিংদীর মাধবদীতে বাড়িতে ডাকাতির সময় মো. শাহজাহান (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় মাধবদী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুলাই ভোররাতে মাধবদী থানার নুরালাপুর ইউনিয়নের বলভদ্রদী গ্রামে সৌদি প্রবাসফেরত মিলনের বাড়িতে একদল ডাকাত হানা দেয়। ডাকাতদের বাধা দিতে গেলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মিলনের বড় ভাই মো. শাহজাহান নিহত হন। এ সময় নিহতের চাচা মো. সুরুজ মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে ডাকাতরা বাড়ি থেকে প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার ও দুটি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মাধবদী থানার খড়িয়া দক্ষিণপাড়ার হাসান আলীর ছেলে জুবায়ের হোসেন (২০), খড়িয়া উত্তরপাড়ার শাহজাহান মিয়ার ছেলে আশিক আহমেদ (২৩), আব্দুল আউয়ালের ছেলে মোজাহিদ রহমান অপু (২২), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মো. সুজন মিয়া (২৫), চরভাসানিয়া এলাকার হানিফ মিয়ার ছেলে মো. ফারুক মিয়া (৩০), নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার যুগাইদা গ্রামের রোমান (২৮) এবং বরিশালের কাজিরহাট থানার জয়নগর গ্রামের মো. হৃদয় মিয়া (২২)।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পর মাধবদী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক টিম তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার নয় দিনের মাথায় ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি পুলিশের।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কয়েকজন এর আগেও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন খড়িয়া এলাকায় সংঘটিত একটি ডাকাতি এবং পাইকারচর ইউনিয়নের কোতোয়ালিচর এলাকায় সংঘটিত দিগন্ত হত্যা মামলারও আসামি।
অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামালের অংশ হিসেবে নগদ ৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ