রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সার্বিক পরিবেশে গত আড়াই মাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছেন একাধিক বন্দি। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, মানবিক আচরণ এবং সেবার মান—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
গত ১৬ এপ্রিল মো. শাহ আলম খানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আল মামুন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কারাগারের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বন্দিদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কারাগারে থাকা একাধিক বন্দির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতীতে ছোটখাটো বা ভিত্তিহীন অভিযোগের ক্ষেত্রেও অনেক সময় তদন্ত ছাড়াই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। তবে বর্তমান সিনিয়র জেল সুপার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এক বন্দি বলেন, “আগে কোনো অভিযোগ এলেই আমাদের ওপর নির্যাতন করা হতো। কিন্তু বর্তমান সিনিয়র জেল সুপার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই চর্চা বন্ধ হয়েছে। এখন কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শারীরিক নির্যাতনের পরিবর্তে বিধি অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
বন্দিদের দাবি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পাশাপাশি খাবারের গুণগত মান ও স্বাদেও উন্নতি এসেছে। এছাড়া সময়মতো চিকিৎসাসেবা, স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও যোগাযোগসহ নির্ধারিত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও আগের তুলনায় সহজলভ্য হয়েছে।
তাদের ভাষ্য, বন্দিদের পুনর্বাসন এবং অপরাধপ্রবণতা থেকে ফিরিয়ে এনে সুনাগরিক হিসেবে সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে কারা কর্তৃপক্ষ।
বন্দিদের মতে, বর্তমান প্রশাসন কারাগারকে কেবল শাস্তির স্থান হিসেবে নয়, একটি কার্যকর সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। তাদের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিবেশে যে পরিবর্তন এসেছে, তা ভবিষ্যতে এটিকে একটি মডেল কারাগারে পরিণত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ