গাজীপুরের শ্রীপুরে তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক প্রয়োজনীয় গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেন না।
একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার জৈনা বাজার, মাওনা চৌরাস্তা, আনসার রোডসহ বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি। গ্যাসের চাপ কম থাকায় একটি গাড়িতে গ্যাস নিতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে। এতে চালকদের সময় ও অর্থ—উভয়েরই ক্ষতি হচ্ছে।
অন্যদিকে, আবাসিক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্নাবান্না করতে হিমশিম খাচ্ছেন গৃহিণীরা।
গৃহিণী তাছলিমা বলেন, অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছে। এতে অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ছে।
ব্লু প্লান গ্রুপের এম এম নিট টেক্স কারখানার এজিএম সাইফুল ইসলাম বলেন, শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত শ্রীপুরের বিভিন্ন কারখানায়ও গ্যাস সংকটের বিরূপ প্রভাব পড়েছে। প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না থাকায় বয়লার ও উৎপাদন যন্ত্রপাতি স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী খাইরুল আলম বলেন, পরিবহন চালক ও শিল্প উদ্যোক্তারা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তারা আশা করছেন।
দীর্ঘস্থায়ী এ গ্যাস সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে জনজীবনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও শিল্প খাতেও আরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিনিধি/আরএইচ