বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি বাড়ির পাশে রাখা বালুর বস্তার মধ্যে থাকা বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু বিস্ফোরিত হয়ে একই পরিবারের তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।
সোমবার সকালে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম, মেয়ে ইতি এবং নাতি ফাহিম। বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
পরিবারের সদস্য জামাল হাওলাদার জানান, বাড়ির পাশে রাখা একটি বালুর বস্তার ভেতরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সে সময় ঘটনাস্থলে তার মা, বোন ও ভাগিনা অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরে আগুন ধরে যায়। প্রাণ বাঁচাতে তারা ঘরের সামনে থাকা তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন। এরপর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তিনি বলেন, বিস্ফোরণে আহতদের শরীরের কাপড় পর্যন্ত পুড়ে যায়। কীভাবে বা কোথা থেকে বালুর বস্তার মধ্যে বিস্ফোরকটি এল, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের কোনো ধারণা নেই। বিষয়টি তাদের কাছেও রহস্যজনক বলে জানান তিনি।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছে এবং বিস্ফোরণের উৎস শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল এবং কীভাবে সেখানে পৌঁছেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিস্ফোরকের ধরন এবং এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষে জানা যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে আকস্মিক এই বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দেশবার্তা/এসআইএস/একে