চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বিদ্যুৎ বরাদ্দ, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং নিম্নমানের গ্রাহকসেবার প্রতিবাদে বরগুনায় বিক্ষোভ মিছিল, বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও এবং স্মারকলিপি প্রদান করেছে বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় বরগুনা প্রেসক্লাব চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এতে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশ নেন। পরে সকাল সোয়া ১০টার দিকে বিক্ষোভকারীরা বরগুনা ওজোপাডিকো (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি) অফিস ঘেরাও করে সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুশফিক আরিফসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বরগুনা জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩০ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সর্বোচ্চ ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। উপকূলীয় এ জেলার প্রতি বিদ্যুৎ বৈষম্য দ্রুত দূর করার দাবি জানান তারা।
সমাবেশে জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—বরগুনায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, নিজেদের টাকায় মিটার কেনার পরও ডিমান্ড চার্জ নেওয়া বন্ধ করা, ইউনিট চার্জ পুনর্বিবেচনা করে পুনর্নির্ধারণ করা, প্রতি মাসে মিটার রিডিং দেখে বিল করা, মিটারবিহীন অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা, গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বন্ধ করা এবং বরগুনায় পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস চালু করা।
ঘেরাও কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব, চিফ হুইপ এবং বরগুনা-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্যের কাছে সাত দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি পাঠানো হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আগামী সাত দিনের মধ্যে বরগুনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে বিদ্যুৎ অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়াসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ