শেরপুরে স্ত্রী-সন্তানের ন্যায্য অধিকার দাবিতে ডিএমপিতে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. উজ্জল মিয়ার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি উজ্জল মিয়ার বিরুদ্ধে মদ্যপান, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুক দাবি ও পরকীয়ার অভিযোগ করেন।
গত ৬ আগস্ট শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন রহিমা বেগম। তিনি সদর উপজেলার চকরামপুর গ্রামের মৃত রহুল আমিনের মেয়ে। পুলিশ কনস্টেবল উজ্জল মিয়া পার্শ্ববর্তী ধলাকান্দা গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে রহিমা বেগম জানান, তাঁকে বিয়ে করার শর্তে উজ্জল মিয়াকে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি নিয়ে দেন সেসময়কার হুইপ আতিউর রহমান আতিক। ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর তাঁদের বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়। বিয়ের পর থেকেই রহিমাকে গরিব-অসহায় বলে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময়ে অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন। তাঁর চেহারা ভালো নয় বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে উজ্জল মিয়া পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে তাঁকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেন এবং পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন রহিমা। উজ্জল মিয়ার বিরুদ্ধে মদ্যপানের অভিযোগও করেন তিনি। শিশুসন্তান সিয়ামের দিকে তাকিয়ে সবকিছু সহ্য করে তিনি সংসার করে আসছিলেন।
তবে কিছুদিন আগে তাঁর স্বামী ও পরিবারের লোকজন তাঁকে নির্যাতন করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন রহিমা। পরে উজ্জল মিয়া তাঁকে একতরফা তালাক দেন। এসব ঘটনায় রহিমা বেগম ডিএমপির ডিসিপ্লিন বিভাগে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
৮ আগস্ট বাদী-বিবাদী উভয়কে ডিএমপি কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপির সাপোর্ট অ্যান্ড লজিস্টিকস বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম বিপিএম-সেবা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কনস্টেবল উজ্জল মিয়া তা অস্বীকার করে বলেন, রহিমা বেগমের অভিযোগ মিথ্যা। তিনি তাঁর বাবার বাড়িতে গিয়ে আর আসতে চাননি। সাংসারিক নানা কারণেই তাঁকে তালাক দিয়েছেন। বিয়ের বিনিময়ে চাকরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে শেরপুর আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান রহিমা বেগম।
প্রতিনিধি/আরএইচ